৫ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ১৯শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

মামলা থাকা সাংবাদিকদের বিষয়ে যা বলছে সরকার

প্রতিদিনের ডেস্ক:
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য বিষয়ক উপদেষ্টা ড. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে—এর মধ্যে দুর্নীতি ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগও রয়েছে—সেগুলোর কিছু ক্ষেত্রে ব্যক্তিগতভাবে তিনি উস্কানির বিষয় রয়েছে বলে মনে করেন। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, যেকোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের ক্ষেত্রে তার প্রকৃত অপরাধের বিচারই হওয়া উচিত।তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্র ও সরকার নিশ্চিত করতে চায় যে, কেউ যদি প্রকৃতপক্ষে অপরাধী হন, তবে তার সঠিক বিচার হবে। একইভাবে কোনও সাংবাদিকের বিরুদ্ধে যদি অন্যায়ভাবে বা হয়রানিমূলকভাবে মামলা হয়ে থাকে, তাহলে সেটি নিয়েও সরকার কথা বলছে।ড. জাহেদ উর রহমান বলেন, সরকারের অবস্থান হলো ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং কেউ যাতে অন্যায়ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সেটি নিশ্চিত করা। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিষয়টি সংশ্লিষ্টরা সঠিকভাবে বুঝতে পারবেন।মঙ্গলবার (১৯ মে) সচিবালয়ে সরকারের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।এ সময় তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, সম্পাদকদের একটি অংশ সেদিনের আলোচনায় উল্লেখ করেছেন যে যারা মিথ্যা মামলার অভিযোগ তুলেছেন, তাদের মধ্যেই অনেকে আবার অপসাংবাদিকতার বিষয়টিও স্বীকার করেছেন। তাদের মতে, এ ধরনের অপসাংবাদিকতার কারণে দেশে বিভিন্ন সময় অরাজকতা তৈরি হয়েছে।তিনি বলেন, সমস্যা হলো—বর্তমানে অপসাংবাদিকতাকে সরাসরি অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করার মতো সুস্পষ্ট আইনগত কাঠামো নেই। ফলে যেসব ঘটনায় মানুষ ক্ষুব্ধ হচ্ছে, অনেক সময় তারা ভিন্ন আইন ব্যবহার করে প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছে। এতে প্রকৃত অপরাধকে যথাযথ আইনি কাঠামোর মধ্যে আনা সম্ভব হচ্ছে না।
মন্ত্রী আরও বলেন, “আমি বিনীতভাবে বলতে চাই, একদিকে যেমন মিথ্যা মামলা থেকে সাংবাদিকদের রক্ষা করার বিষয় আছে, তেমনি অপসাংবাদিকতার কারণে যে নৈরাজ্য তৈরি হয়েছে এবং সাংবাদিকতা বহির্ভূত অপরাধে যারা জড়িত, তাদের বিষয়েও আলোচনায় এসেছে। কিন্তু এসব বিষয়কে সুনির্দিষ্ট আইনি কাঠামোতে আনার ঘাটতি রয়েছে।”তিনি জানান, এ বিষয়ে সরকার পর্যবেক্ষণ করছে এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।তথ্যমন্ত্রী বলেছেন, কমিশন গঠনের পর প্রচলিত আইনের আওতায় এসব তৎপরতাকে কীভাবে অন্তর্ভুক্ত করা যায় এবং আইনগতভাবে এসব অপরাধকে কীভাবে সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করা সম্ভব—সেই বিষয়ে কমিশন কাজ করবে।তিনি বলেন, এ কারণেই তিনি এ বিষয়ে এখন কোনও নির্দিষ্ট মন্তব্য করেননি, বরং আইনের বিদ্যমান সীমাবদ্ধতার বিষয়টি তুলে ধরেছেন। তার মতে, গণকমিশন না থাকার কারণে যে ভোগান্তি তৈরি হয়েছে, সেটিও একটি বাস্তবতা।তথ্যমন্ত্রী আরও জানান, একটি নতুন যাত্রা শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে এবং সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই এসব বিষয় নিয়ে পরবর্তীতে বিস্তারিতভাবে কাজ করা হবে।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়