প্রতিদিনের ডেস্ক
সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে কান চলচ্চিত্র উৎসবে যোগ দিয়েছেন বলিউড অভিনেত্রী ও গ্লোবাল আইকন ঐশ্বরিয়া রাই। উৎসবের প্রায় শেষ মুহূর্তে অংশ নিয়েও নিজের চিরচেনা জাদুতে পুরো লাইমলাইট নিজের কেড়ে নিয়েছেন তিনি। বরাবরের মতো এবারও তার সঙ্গী হয়েছে একমাত্র মেয়ে আরাধ্য বচ্চন। কান ২০২৬-এর প্রথম উপস্থিতির জন্য ঐশ্বরিয়া বেছে নিয়েছিলেন একটি ঝকঝকে নীল রঙের মারমেইড গাউন। লাল গালিচায় পা রাখার পর থেকেই তার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুমুল ভাইরাল হয়ে যায়। একটি ভিডিওতে দেখা যায়, কানের ঐতিহ্যবাহী সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে আলোকচিত্রীদের সামনে অত্যন্ত মার্জিত ও মোহনীয় ভঙ্গিতে পোজ দিচ্ছেন এই বিশ্বসুন্দরী। অন্য একটি ভিডিওতে দীর্ঘদিনের বন্ধু এবং লরিয়েল প্যারিসের সহ-অ্যাম্বাসেডর ইভা লংগোরিয়ার সঙ্গে তাকে উষ্ণ আলিঙ্গন ও কুশল বিনিময় করতে দেখা যায়।
কান চলচ্চিত্র উৎসবে ‘দ্য বার্থডে পার্টি’ সিনেমার প্রিমিয়ারে অংশ নেন ঐশ্বরিয়া। এর আগে মুম্বাই বিমানবন্দর থেকে মেয়ে আরাধ্যকে নিয়ে কানের সমাপনী অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ফ্রান্সের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন তিনি। উৎসবের আগে ঐশ্বরিয়ার উপস্থিতি নিয়ে ভক্তদের প্রশ্নের জবাবে লরিয়েল প্যারিস এর পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, ‘বছরের পর বছর, কানের পর কান, তিনি কখনো মিস করেন না।’ কথাটার যৌক্তিকতা যে কতটুকু সেটা কান ও ঐশ্বরিয়ার দুই দশকের ইতিহাসের দিকে তাকালেই স্পষ্ট বোঝা যায়। ২০০২ সাল থেকে কান চলচ্চিত্র উৎসবের নিয়মিত মুখ ঐশ্বরিয়া রাই। কানের মঞ্চে তার পথচলা যেমন দীর্ঘ, তেমনই ঐতিহাসিক।
বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ এই চলচ্চিত্র উৎসবটিতে পরিচালক সঞ্জয় লীলা বানসালী এবং সহ-অভিনেতা শাহরুখ খানের সঙ্গে ‘দেবদাস’ চলচ্চিত্রের প্রিমিয়ারের মাধ্যমে প্রথমবার কানের রেড কার্পেটে হাঁটেন তিনি। অভিষেকের ঠিক পরের বছরই এই মর্যাদাপূর্ণ চলচ্চিত্র উৎসবের জুরি মেম্বার (বিচারক) নির্বাচিত হন তিনি। প্রথম ভারতীয় অভিনেত্রী হিসেবে এই গৌরব অর্জন করেন ঐশ্বরিয়া। পরবর্তীতে বিদ্যা বালান এবং দীপিকা পাড়ুকোনও এই দায়িত্ব পালন করেন। কানের কোনো কোনো সংস্করণে স্বামী অভিষেক বচ্চন কিংবা শ্বশুর অমিতাভ বচ্চন ও শাশুড়ি জয়া বচ্চনকেও তার সঙ্গে দেখা গেছে। তবে গত কয়েক বছর ধরে মেয়ে আরাধ্যই কানের সফরে তার সার্বক্ষণিক সঙ্গী। অবশ্য এ বছর লরিয়েলের প্রচারণামূলক ক্যাম্পেইনে প্রথমে তাকে না দেখে ভক্তরা কিছুটা চিন্তিত হলেও, নীল পোশাকে তার এই রাজকীয় প্রবেশ প্রমাণ করল—এই বিশ্বসুন্দরীর জন্য অপেক্ষাটা আসলেই সার্থক ছিল। সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

