১০ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ২৪শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

যশোর-খুলনা মহাসড়কে দুর্ঘটনায় নারী-শিশুসহ নিহত ৪: জনতার আগুনে পুড়ল কাভার্ডভ্যান

সৈকত হোসেন
যশোর-খুলনা মহাসড়কের যশোর সদর উপজেলার রূপদিয়া চাউলিয়া হাইওয়ে তেল পাম্পের সামনে শনিবার সকালে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় নারী ও শিশুসহ চারজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দুর্ঘটনার পর ক্ষুব্ধ জনতা মহাসড়কে বিক্ষোভ, ভাঙচুর ও অবরোধ সৃষ্টি করে দুর্ঘটনা কবলিত কাভার্ড ভ্যানে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, খুলনা থেকে যশোরগামী একটি দ্রুতগতির ভারী যান নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রথমে একটি ভ্যানকে ধাক্কা দেয়। পরে সামনে থাকা একটি ইজিবাইককে সজোরে আঘাত করলে ত্রিমুখী সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। এতে ঘটনাস্থলেই কয়েকজন গুরুতর আহত হন। দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন মনিরামপুর উপজেলার মোহনপুর এলাকার সাজ্জাদ হোসেন (২৮) ও শিশু সৌভিক সাহা।

স্থানীয়রা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সৌভিক মারা যায়। এর আগে একই দুর্ঘটনায় নিহত হন ঘুনি পূর্বপাড়া এলাকার মৃত হাসান আলী মোল্লার ছেলে ও ইজিবাইক চালক মোহাম্মদ আইয়ুব আলী (৪৩), ঘোড়াগাছা সাহাপাড়া এলাকার বৃষ্টি সাহা (২৪) এবং চাউলিয়া এলাকার মৃত কালু শেখের ছেলে আনোর আলী (৭০)। নিহতদের স্বজন ও এলাকাবাসীর আহাজারিতে ঘটনাস্থলে হৃদয় বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানায়, খুলনা থেকে যশোরগামী দ্রুতগতির একটি কাভার্ড ভ্যান (ঢাকা মেট্রো-ট-১৮-০৩২৩) বেপরোয়া গতিতে এসে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রথমে সড়কের পাশে থাকা একটি ভ্যানকে ধাক্কা দেয়। এরপর সামনের দিকে থাকা একটি ইজিবাইকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে ইজিবাইকটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং এর ভেতরে থাকা যাত্রী ও চালক ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন। ঘটনাস্থলেই তিনজন নিহত হন। পরে গুরুতর আহত অপর একজনের হাসপাতালে মৃত্যু হয় বলে জানা গেছে। দুর্ঘটনার খবর মুহূর্তেই আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দা, পথচারী ও ব্যবসায়ীরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। হতাহতদের উদ্ধার করতে গিয়ে সৃষ্টি হয় হৃদয়বিদারক দৃশ্য। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে পাঠানো হলেও চিকিৎসক একজনকে মৃত ঘোষণা করেন। এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বিক্ষুব্ধ জনতা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ, ভাঙচুর ও প্রতিবাদ জানায়। একপর্যায়ে দুর্ঘটনাকবলিত কভার্ডভ্যানে আগুন ধরিয়ে দেয় তারা। এতে মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং উভয় পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে এবং বিক্ষুব্ধ জনতাকে শান্ত করার চেষ্টা করে। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় এবং যান চলাচল পুনরায় শুরু হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কাভার্ড ভ্যানের চালককে আটক করা হয়েছে। কী কারণে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিলেন, সেটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে আইনি প্রক্রিয়া শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে পুলিশ । স্থানীয়দের অভিযোগ, যশোর-খুলনা মহাসড়কে দীর্ঘদিন ধরেই অতিরিক্ত গতি, ভারী যানবাহনের বেপরোয়া চলাচল, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও নজরদারির অভাবে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে

 

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়