প্রতিদিনের ডেস্ক
গবেষণার প্রধান লেখক, বিল চ্যাপলিন বলেছেন, সূর্যের নিজস্ব একটি ‘সক্রিয় জৈবিক ছন্দ’ রয়েছে, যা মহাকাশের আবহাওয়া নিয়ন্ত্রণকারী চৌম্বকীয় কার্যকলাপের উত্থান-পতনের সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে সূর্যের পৃষ্ঠে পরিচালিত প্রচলিত পর্যবেক্ষণ দিয়ে এ পরিবর্তনের পূর্ণ চিত্র পাওয়া সম্ভব নয়। তার ভাষায়, সূর্য সম্ভবত এমন একটি নতুন আচরণগত পর্যায়ে প্রবেশ করছে, যা কয়েক দশক ধরে ধীরে ধীরে বিকশিত হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, আমরা সৌর সক্রিয়তার চক্রে নির্দিষ্ট কিছু পরিবর্তনের প্রমাণ পেয়েছি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, প্রতিটি নতুন চক্রের সঙ্গে চৌম্বকীয় সক্রিয়তা সূর্যের পৃষ্ঠের আরও কাছাকাছি এবং আরও সীমিত এলাকায় কেন্দ্রীভূত হয়ে পড়ছে। গবেষকদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষণ কর্মসূচি ‘বাইসন’-এর তথ্য ছাড়া এ ধরনের পরিবর্তন শনাক্ত করা সম্ভব হতো না। এদিকে সর্বণী বসু বলেন, সাম্প্রতিক কয়েকটি সৌরচক্রে সূর্যের অভ্যন্তরীণ কম্পন ও পৃষ্ঠের সক্রিয়তার মধ্যকার সম্পর্ক ধারাবাহিকভাবে বদলে যেতে দেখা গেছে। তার মতে, এ পরিবর্তনকে শুধু চৌম্বক ক্ষেত্রের দুর্বলতা দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না। বরং এটি ইঙ্গিত দেয় যে সূর্যের অভ্যন্তরে চৌম্বকীয় শক্তি কীভাবে সঞ্চিত ও সংগঠিত হয়, সেই কাঠামোতেই বড় ধরনের পুনর্বিন্যাস ঘটছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, সূর্যের বর্তমান চক্র এবং এর অভ্যন্তরীণ পরিবর্তনের প্রকৃত কারণ বুঝতে আরও বিস্তৃত গবেষণা প্রয়োজন। কারণ এসব পরিবর্তন ভবিষ্যতে মহাকাশের আবহাওয়া, সৌরঝড়ের তীব্রতা এবং পৃথিবীর প্রযুক্তিগত অবকাঠামোর ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

