২৯শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ১২ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

জনকল্যাণ হোক মূল লক্ষ্য ২০২৬-২৭ সালের বাজেট ঘোষণা আজ

বাজেট ঘোষণার সময় এলেই মানুষের মধ্যে এক ধরনের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা জন্ম নেয়। নিম্নবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্তদের মনে একটা প্রশ্নই ঘুরপাক খেতে থাকে, টানাটানি করে চলা সংসার খরচ পূরণ করা কি আরো কষ্টকর হয়ে পড়বে? সাধারণ মানুষের সেই প্রশ্ন ও অনুভূতিকে মূল্য দিয়েই প্রণয়ন করা হয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের প্রথম বাজেট।বাজেট প্রণয়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের মতে, দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষের কষ্ট লাঘব ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণই বাজেটে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সংসদে উত্থাপিত হতে যাচ্ছে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রত্যাশিত সেই বাজেট। বাজেটে সাধারণ মানুষের জন্য বড় সুখবর হলো, নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য-মূল্যস্ফীতি কমাতে বিশেষ পদক্ষেপ। বাজেটে চাল, ধান, গম, আলু, পেঁয়াজ, ভোজ্য তেলসহ ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় ও কৃষিপণ্যে উৎস করের হার কমিয়ে ০.৫০ শতাংশ করার প্রস্তাব আসতে পারে।একই সঙ্গে এসব পণ্যে নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্কও প্রত্যাহার হতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞদের মত, শুধু শুল্ক কমালেই হবে না, শুল্ক কমানোর সুফল যেন ভোক্তারা পায় সেদিকে বিশেষ তৎপরতা থাকতে হবে। কনজিউমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘নিত্যপণ্যের দাম না বাড়লে মানুষ স্বস্তি পাবে। সরকারেরও নির্বাচনের সময় বাজারে দাম সহনীয় মাত্রায় রাখার অঙ্গীকার ছিল।এটা করতে পারলে সরকার মানুষের কাছে বাহবা পাবে। আর রাজনীতিবিদদের কথার প্রতি মানুষ আশ্বস্ত হবে।’
দেশের অর্থনীতি যখন দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতি, রাজস্ব ঘাটতি, বিনিয়োগ স্থবিরতা, ব্যাংক খাতের দুর্বলতা এবং ঋণনির্ভরতার ক্রমবর্ধমান চাপে জর্জরিত, ঠিক সেই সময় ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার এই বাজেটের বাস্তবায়ন সক্ষমতা নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন। যদিও সরকারের ভাষ্য, অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিনিয়োগ বাড়ানো এবং দীর্ঘ মেয়াদে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার ভিত্তি স্থাপনের জন্য এই বাজেট অত্যন্ত সময়োপযোগী।অর্থনীতিবিদদের অনেকরই মত, কোনো সুস্পষ্ট ‘রোডম্যাপ’ ছাড়াই আসছে বাজেটে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে।আর এটিই বুমেরাং হতে পারে বাজেট বাস্তবায়নে। আগামী অর্থবছরে প্রায় ছয় লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মাধ্যমে সংগ্রহের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ছয় লাখ চার হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ চলতি অর্থবছরের সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ৪২ শতাংশ বেশি রাজস্ব আদায় করতে হবে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, চলতি অর্থবছরের আরো কম লক্ষ্যমাত্রাই এনবিআর অর্জন করতে পারেনি।সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ‘অর্থনীতি যখন চাপে থাকে তখন রাজস্ব সংগ্রহের সক্ষমতাও সীমিত হয়ে যায়। শুধু লক্ষ্য বাড়িয়ে দিলেই রাজস্ব বাড়ে না। এর জন্য প্রয়োজন করভিত্তি সম্প্রসারণ, কর প্রশাসনের সংস্কার এবং কর ফাঁকি রোধে কার্যকর ব্যবস্থা।’ বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হলে পুরো বাজেট কাঠামোই চাপে পড়ে যাবে। কারণ সরকারের ব্যয় পরিকল্পনার বড় অংশ এই রাজস্ব আয়ের ওপর নির্ভর করছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, বাজেটে চমক সৃষ্টির চেয়েও বড় হচ্ছে অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের লাগাম টেনে ধরা ও বাজেট যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা। দেশে শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান বাড়াতে হবে। সামগ্রিকভাবে উৎপাদনের পরিবেশ রক্ষা করতে হবে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও জনপ্রত্যাশা পূরণ সর্বাধিক গুরুত্ব আরোপ করতে হবে।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়