শিক্ষামন্ত্রী বললেন আগামী বছর থেকে মাদ্রাসা ও কারিগরি বোর্ডের পরীক্ষা অভিন্ন প্রশ্নপত্রে

প্রতিদিনের ডেস্ক:
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, “একটি রাষ্ট্র, একটি শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং একই সিলেবাস হওয়া সত্ত্বেও দেশের বিভিন্ন বোর্ডে আলাদা আলাদা প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা হওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। আমরা এবার ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডকে এক সুতায় বেঁধেছি, একক প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আগামী বছর থেকে মাদ্রাসা ও কারিগরি বোর্ডের ক্ষেত্রেও বাংলা, ইংরেজির মতো সাধারণ বিষয়গুলোর পরীক্ষা অভিন্ন প্রশ্নপত্রে একযোগে অনুষ্ঠিত হবে।”বুধবার (২৪ জুন) রাজধানীর আজিমপুর গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের অডিটোরিয়ামে আসন্ন এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা ২০২৬ উপলক্ষে চার শিক্ষা বোর্ডের কেন্দ্র সচিবদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় বৈষম্য দূর করতে আগামী বছর থেকে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের পাশাপাশি মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের সব আবশ্যিক ও সাধারণ বিষয়ের পরীক্ষা একই দিনে এবং অভিন্ন (একক) প্রশ্নপত্রে অনুষ্ঠিত হবে।”চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষায় একক প্রশ্নপত্র চালুর চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে কর্মকর্তাদের সতর্ক করে তিনি বলেন, “বিজি প্রেস থেকে সঠিক নিয়মে প্রশ্নপত্র পাঠানো হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয় করে কোড অনুযায়ী সঠিক প্রশ্নপত্র পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছাতে হবে। প্রশ্ন বিতরণে কোনো ভুল বা কোড বিভ্রাট ঘটলে ‘সরি’ বা দুঃখ প্রকাশ করে পার পাওয়া যাবে না। যার ভুল, তাকেই কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।”
আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, “এখন আর নকল নেই, তবে নকলের রূপ পরিবর্তন হয়েছে। সেজন্য পুরোনো ‘পরীক্ষা আইন’ পরিবর্তন করা হয়েছে। আসন্ন এইচএসসি পরীক্ষায় যদি কোনো শিক্ষার্থীর কাছে নকল পাওয়া যায়, তবে তাকে ডিটেনশনে বা আইনের আওতায় আনা হবে। একইসঙ্গে কোনো পরীক্ষাকেন্দ্রে নকল পেলে, ওই প্রতিষ্ঠানের প্রধান বা কেন্দ্র প্রধানকেও আইনের আওতায় আনা হবে।”মন্ত্রী বলেন, “সংসদে আগের পরীক্ষা আইন সংশোধন করে বর্তমান সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা হয়েছে। নকল-প্রশ্নফাঁসের বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। সেজন্য এখন পরীক্ষা আইনের পরিবর্তন করা হয়েছে।”তিনি বলেন, “৯ মাসের পিটিআই ট্রেনিং, পিএসসির ব্যাকলগ কিংবা এনটিআরসিএ’র শিক্ষক নিয়োগে সব জায়গায় মামলা দিয়ে স্থবিরতা তৈরি করা হচ্ছে। ১৫ হাজার শিক্ষক নির্বাচিত হওয়ার পরও মামলা করে নিয়োগ আটকে দেওয়া হয়েছে। একটি গ্রুপ ও অ্যাসোসিয়েশনের কিছু লোক এই মামলার সাথে জড়িত। আমি তাদের চিহ্নিত করছি। যারা জাতি গঠনের অগ্রযাত্রায় বাধা সৃষ্টি করে, তারা রাষ্ট্রের শত্রু, দেশের শত্রু। এ বিষয়ে মহামান্য আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। সরকারও তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেবে।”
আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, “বিগত সরকারের আমলে কোনো নিয়ম না মেনে প্রতি ৩ কিলোমিটারের মধ্যে অপরিকল্পিতভাবে স্কুল ও মাদ্রাসা স্থাপন করা হয়েছে। ২৩ থেকে ২৬ শতক জায়গার ওপর ঘর তুলে নিবন্ধনহীন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়েছে, যেখানে শিক্ষকদের যোগ্যতার কোনো সঠিক যাচাই করা হয়নি। ইবতেদায়ী ও প্রাথমিক স্কুলের মধ্যে দ্রুত সমন্বয় এবং এই লাগামহীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে একটি নিয়মের (রেগুলেশন) মধ্যে আনতে ইতোমধ্যে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে।”ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর সৈয়দ মো. আখতারুজ্জামানের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা- ৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান, সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, জেলা-উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তারা।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়