প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া ও চীন সফর

চীন ও মালয়েশিয়া বাংলাদেশের দুই গুরুত্বপূর্ণ বন্ধু দেশ ও উন্নয়ন অংশীদার। তাই এই দেশ দুটিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম সরকারি সফরকে বিশ্লেষকরা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মনে করছেন।প্রধানমন্ত্রী ২১-২২ জুন মালয়েশিয়া এবং ২৩ থেকে ২৬ জুন পর্যন্ত চীন সফর করেন। দুটি দেশে অত্যন্ত সফল ও কার্যকর এই সফরের জন্য গত শনিবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সর্বসম্মতিক্রমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করা হয়। জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ আমাদের দায়িত্ব দিয়েছে তাদের স্বার্থ দেখার। আমি সফরে দেশ ও দেশের মানুষের স্বার্থ নিয়ে কথা বলেছি এবং সেই স্বার্থ রক্ষার চেষ্টা করেছি।
পরীক্ষিত বন্ধু দেশ মালয়েশিয়া একই সঙ্গে বাংলাদেশের একটি প্রধান শ্রমবাজার। গত ২২ জুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকের পর দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে সংস্কৃতিবিষয়ক একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এ ছাড়া সন্ত্রাসবাদ দমন বিষয়ে গবেষণা ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহযোগিতাসংক্রান্ত একটি দলিল এবং বিনিয়োগসংক্রান্ত একটি দ্বিপক্ষীয় দলিল বিনিময় করা হয়।এ ছাড়া ২০২৭ সালের মধ্যে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। একই সঙ্গে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ বিষয়ে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ (জেডব্লিউজি) বৈঠকের আয়োজন এবং নতুন সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) তৈরির প্রক্রিয়া শুরু করার সিদ্ধান্ত হয়।প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত ২৬ জুন সকালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন। এর আগে ২৫ জুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও চীনের প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াংয়ের নেতৃত্বে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে দুই প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা বিষয়ক ১৩টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়।
সই হওয়া সমঝোতা স্মারকের মধ্যে রয়েছে বিনিয়োগ সহায়তা, জিডিআই, মানবসম্পদ উন্নয়নে সহায়তা, চীনের ভাষাশিক্ষা এবং গণমাধ্যমের নানা পরিসরে সহায়তা।প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া ও চীন সফরকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক স্বার্থ এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, ‘এই সফর মূলত বাংলাদেশের উন্নয়ন, বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলোতে ইতিবাচক হিসেবে দেখছি। মালয়েশিয়া বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ শ্রমবাজার। দেশটিতে বাংলাদেশি কর্মীদের নিয়োগ নিয়ে বিদ্যমান জটিলতা দূর করা গেলে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।’অন্যদিকে বাংলাদেশ, ভারত, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চতুর্মুখী পারস্পরিক ‘ব্যালান্স’ কূটনীতিতে কিছুটা চ্যালেঞ্জ দেখছেন কোনো কোনো বিশ্লেষক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ও গবেষক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, বাংলাদেশ কী পেল বলা মুশকিল। শুধু তো এমওইউ সই হয়েছে। এমওইউ সই করা আর বাস্তবায়নের মধ্যে কিন্তু বড় গ্যাপ আছে। তিনি বলেন, এখানে বেশ কিছু বিষয় আছে; যেমন—টু প্লাস টু অ্যাগ্রিমেন্ট, যেখানে রয়েছে ফরেন পলিসি এবং সিকিউরিটি, তাইওয়ান ইস্যুতে চীনের নীতিকে সমর্থন—এসব বিষয় যুক্তরাষ্ট্র কিভাবে নেবে, সেটি এখন দেখার বিষয়।সব দিক বিবেচনায় প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া ও চীন সফর অত্যন্ত ফলপ্রসূ। আমরা মনে করি, দেশ দুটির সঙ্গে সৃষ্ট সমঝোতার আলোকে ভবিষ্যৎ সম্পর্ক দ্রুত এগিয়ে যাবে। পাশাপাশি আগামী দিনগুলোতে পারস্পরিক সহযোগিতা আরো সুদৃঢ় করতে পর্যাপ্ত উদ্যোগ নিতে হবে।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়