বছর ঘুরলেও যুবদল নেতা মাহাবুব মোল্লার হত্যার তদন্ত শেষ হয়নি

খুলনা প্রতিনিধি
বছর ঘুরলেও এখনও তদন্ত শেষ হয়নি দৌলতপুর থানা যুবদলের সাবেক সহ-সভাপতি মাহাবুবুর রহমান মোল্লা হত্যাকাণ্ডের। হত্যা মামলায় এ পর্যন্ত ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এর মধ্যে তিনজন কারাগারে রয়েছেন, বাকিরা উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। নিহতের পরিবারকেও হুমকি দিচ্ছেন। পুলিশকে জানিয়েও ফল পাচ্ছেন না যুববদল নেতার পরিবার। আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন তারা। দৌলতপুর থানা যুবদল নেতার স্ত্রী এরিন সুলতান মুঠোফোনে খুলনা গেজেটকে বলেন, মামলাটি নিয়ে আমরা যে আশা করেছিলাম সেটি হয়নি। হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের কারণ, কারা নেতৃত্ব ও অর্থ দিয়েছে-এখনও পর্যন্ত পুলিশ জানতে পারেনি। তিনি আরও বলেন, হত্যাকাণ্ডের সময় মোটরসাইকেলে ছিল তানভীর চৌধুরী আপ্পান, রিয়াজ সর্দার সূর্য্য এবং রাজীব মোল্লা শুভ। এরা কারাগারে রয়েছে। মামলার অপর সাত আসামি উচ্চ আদালত থেকে জামিনে মুক্ত হয়ে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। প্রায়ই সময় পরিবারকে মামলা তুলে নেওয়া, থানায় ও আদালতে না যাওয়ার জন্য হুমকি দেয় সন্ত্রাসীরা। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বাড়িতে কোনো রকমের চুপচাপ পড়ে থাকি। পরিবারের আরেক সদস্য খুলনা গেজেটকে বলেন, আপ্পান আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। সেখানে জড়িত সন্ত্রাসীদের নামও বলেছে। পুলিশ এখন পর্যন্ত তাদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি। মাহাবুব মোল্লা মারা যাওয়ার পর দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিলাম। এলাকার পরিবেশ পরিস্থিতি তেমন উন্নতি হয়নি। এলাকায় প্রতিদিন চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটছে। পুলিশ আসে আর যায়। তিনি আরও বলেন, যুবদল নেতা মাহবুব জীবিত থাকাকালীন দলীয় অনেক শীর্ষ নেতা বাড়িতে আসতেন। কিন্তু এখন আর কেউ আসেন না। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এএফএম জাহিদুল ইসলাম বলেন, সম্প্রতি ফুলতলা থেকে অস্ত্রসহ আপ্পানসহ দু’জন সন্ত্রাসীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে কয়েকটি অস্ত্রও উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রগুলোর মধ্যে একটি মাহবুব হত্যাকান্ডে ব্যবহার করা হয়েছে বলেও আপ্পান আদালতে স্বীকারোক্তি দেয়। তবে সে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করেছে পুলিশকে। ব্যালেস্টিক পরীক্ষার জন্য আবেদন করা হলে সেটির অনুমতি দিয়েছে আদালত। পরীক্ষার রিপোর্ট পাওয়ার পর আদালতে চার্জশিট প্রদান করা হবে। পরিবারের সদস্যদের হুমকির দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে এ কর্মকর্তা বলেন, ‘এমন সংবাদ আমার জানা নেই। পরিবারের পক্ষ থেকেও আমাদের জানানো হয়নি।’ উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১১ জুলাই নিজ বাড়ির সামনে মাহবুবুর রহমান মোল্লাকে গুলি করে এবং পায়ের রগ কেটে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদি হয়ে দৌলতপুর থানায় অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

 

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়