ফুলতলায় দুঃসাহসিক ডাকাতি ৮ লাখ টাকা ও ৬ ভরি স্বর্ণালঙ্কার লুট

এস এম মমিনুর রহমান, ফুলতলা
খুলনার ফুলতলা উপজেলার শিকিরহাট গ্রামে রবিবার দিবাগত রাতে এক দুঃসাহসিক ও নৃশংস ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ৭ জনের একটি সংঘবদ্ধ সশস্ত্র ডাকাত দল মই বেয়ে বাড়ির দোতলায় উঠে গ্রিল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর অস্ত্রের মুখে পরিবারের সবাইকে জিম্মি ও নগদ ৮ লক্ষ টাকা, ৬ ভরি স্বর্ণালঙ্কার সহ বিপুল পরিমাণ মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে। ডাকাতদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গৃহকর্তা ও ব্যাংক কর্মকর্তা হাজ্জাজ ইমতিয়াজ ফরিদ (৪০) গুরুতর জখম হয়েছেন। স্থানীয় ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, রবিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ২টা থেকে ৩টার দিকে যখন দেশজুড়ে ফুটবলপ্রেমীরা ব্রাজিল বনাম নরওয়ের মধ্যকার বিশ্বকাপ ফুটবল ম্যাচ দেখায় মগ্ন ছিলেন, ঠিক তখনই এই তাণ্ডব চালায় ডাকাত দলটি। শিকিরহাট গ্রামের শেখ গোলাম মোস্তফার বাড়িতে মইয়ের সাহায্যে ডাকাতরা দোতলার বারান্দায় ওঠে। এরপর কৌশলে এসএস (স্টেইনলেস স্টিল) এর গ্রিল কেটে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে। ঘরে ঢুকেই ডাকাতরা আগ্নেয়াস্ত্র ও ধারালো অস্ত্রের মুখে বৃদ্ধ সাবেক প্রধান শিক্ষক শেখ গোলাম মোস্তফা, তার পুত্র হাজ্জাজ ইমতিয়াজ ফরিদসহ বাড়ির সকলকে জিম্মি করে ফেলে। চিৎকার করার চেষ্টা করলে ডাকাতরা সবাইকে রশি দিয়ে শক্ত করে বেঁধে ফেলে। এ সময় বাধা দেওয়ার চেষ্টা করায় হাজ্জাজ ইমতিয়াজ ফরিদকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে রক্তাক্ত ও জখম করে তারা। এরপর ডাকাত দল পুরো ঘরের আলমারি ও ওয়ারড্রব তছনছ করে নগদ ৮ লক্ষ টাকা ও প্রায় ৬ ভরি স্বর্ণালঙ্কার ব্যাগে ভরে অনায়াসে পালিয়ে যায়। ঘটনার পর পর গুরুতর আহত হাজ্জাজ ইমতিয়াজ ফরিদকে উদ্ধার করে প্রথমে ফুলতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তর করেন। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে সোমবার সকালে খুলনার পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, বিপিএম-সেবা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বি-সার্কেল) মোঃ খায়রুল আনাম, বিপিএম-সেবা, ফুলতলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ মারগুব তৌহিদসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে ফুলতলা থানায় একটি ডাকাতি মামলার প্রস্তুতি চলছিল। এলাকার শান্তিপ্রিয় গ্রামে এমন নৃশংস ডাকাতির ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকার নিরাপত্তা জোরদারে পুলিশি টহল বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়