কালীগঞ্জে গরু চুরির হিড়িক পড়ছে ১১টি গরু চুরি-আতঙ্কে খামারিরা

সোহেল আহমেদ, কালীগঞ্জ,
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে গরু চুরির হিড়িক পড়ছে। সম্প্রতি একের পর এক গরু চুরির ঘটনায় চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় কৃষক ও খামারিরা। এদিকে চোরচক্রের সদস্যরা ধরা ছোয়ার বাইরেই থেকে যাচ্ছে। গত কয়েক দিনে উপজেলার ইশ্বরবা,মেগুরখির্দা,বলিদাপাড়া গ্রাম থেকে অন্তত ১১টি গরু চুরি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সংঘবদ্ধ চোরচক্র গরু চুরি করে পিকআপ ও ট্রাকে করে নির্বিঘ্নে গরু চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে। গরু চুরির ঘটনায় ভুক্তভোগী খামারিরা থানায় লিখিত অভিযোগ দিলেও তাতে মিলছে না কোন সুরাহা। ১১ জুলাই দিবাগত রাতে বলিদা পাড়া গ্রামের বাসিন্দা রবিউল ইসলামের গোয়াল ঘর থেকে দুইটি বড় গাভী ও একটি বাছুর সহ মোট তিনটি গরু চোর চক্রের সদস্যরা চুরি করে নিয়ে যায়, একই রাতে মেগুরখির্দা গ্রামে একজন খামারীর একটি গরু চুরি হয়। ৯ জুলাই ইশ্বরবা গ্রামের আইয়ুব হোসেনের গোয়ালঘর থেকে ২ টি গরুর চুরি করে চোর চক্রের সদস্যরা পিকপে করে নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। যা রাস্তার পাশে থাকা একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়। ভুক্তভোগী খামারী রবিউল ইসলাম বলেন, তিনটি গরু ছিল আমার সংসারের একমাত্র ভরসা। দুধ বিক্রি করেই পরিবার চালাতাম। এখন সব শেষ হয়ে গেছে। খামারি আইয়ুব হোসেন জানান, আমার গরুটি চুরি হওয়ার পর হতাশ হয়ে গরু পালন ছেড়ে দেব ভাবছি। এত কষ্ট করে গরু বড় করি, আর তা এক রাতে চোরের হাতে তুলে দিতে হয়! তাছাড়াও দুলাল মন্দিয়া, কাষ্ঠভাঙ্গা,কাদিপুর, কমলাপুর ও ভাতগাড়া হতে গরু চুরি খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের দাবি, গরু চুরির এই ধারাবাহিকতা রোধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় গরু চুরি দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই অবস্থা চলতে থাকলে চাষাবাদ ও গবাদিপশু খামার চরম হুমকির মুখে পড়বে। এ বিষয়ে কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জেল্লাল হোসেন বলেন, গরু চুরির ঘটনাগুলোর তদন্ত চলছে। এলাকায় পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে। আমরা দ্রুত চোরচক্র শনাক্ত করে ধরে ফেলতে পারব বলে আশা করছি।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়