৮ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ২১শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

লোহাগড়ায় নারী শিক্ষককে প্রধান শিক্ষক কর্তৃক উত্যক্ত করার সত্যতা মিলেছে, বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ

রেজাউল করিম, লোহাগড়া
একজন সহকারী নারী শিক্ষক(৩১)কে দীর্ঘদিন যাবৎ উত্যক্ত করে আসছেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিজেই। শিক্ষা অফিসে লিখিত ও বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদে মৌখিক অভিযোগ দিয়েী দীর্ঘদিনে বিচার পাননি নির্যাতিত ওই শিক্ষক। চরম অপমান-অপদস্থ্য, মানসম্মান ক্ষুন্ন হলেও ওই বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা চালিয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছেন তিনি। ঘটনাটি ঘটেছে নড়াইলের লোহাগড়ার ৩২নং দেবী শুলটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। জানা গেছে,দেবী শুলটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মোট চারজন শিক্ষক কর্মরত। তার মধ্যে প্রধান শিক্ষকসহ দুজন সহকারী মিলে তিনজনই পুরুষ শিক্ষক এবং অপরজন ওই নারী শিক্ষক। বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক আবুল আজাদ(৫৫) বাড়ি পাশের গ্রামে। প্রধান শিক্ষকের রয়েছে স্ত্রী-সন্তান। উত্যক্তের শিকার ওই নারী শিক্ষক জানান, ২০২০ সালে ৩২নং দেবী শুলটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসাবে যোগদান করেন। ২০২১ সালে ডিপি-এড ট্রেনিং এ ছিলেন। করোনার বন্ধসহ ট্রেনিং শেষে ২০২২ সালে পুনরায় বিদ্যালয়ে ফিরে আসেন। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে এই স্কুল থেকে একজন নারী শিক্ষক বদলী হয়ে অন্যত্র চলে যান। এরপর বিদ্যালয়ে তিনজন পুরুষ শিক্ষক ও আমি একমাত্র নারী শিক্ষক ছিলাম। এরপর থেকেই প্রধান শিক্ষক মোঃ আবুল আজাদ আমাকে উত্যক্ত করা শুরু করেন। প্রথমে প্রধান শিক্ষক মাঝে মাঝে আমাকে ফোন দিয়ে আন অফিসিয়ালী কথা বলতেন। দিনে-রাতে ৩০/৪০ বারও ফোন দিতেন। আমি নিষেধ করলেও তিনি শুনতেন না। এরপর থেকে প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ে সুযোগ পেলেই আমাকে নানা অশ্লীল প্রস্তাব দিতেন। আমি স্যারের নামবার ফোনে ব্লাকলিস্ট করলেও তিনি অন্য নামবার দিয়ে ফোন দিতেন। এক পর্যায়ে প্রধান শিক্ষক আমাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। আমি রাজি না হওয়ায় টাকা দেবার প্রস্তাব দেন। আমাকে তিনি বোরকা, রেইনকোর্ট, জমি-বাড়ি,গাড়ি কিনে দেবার প্রলোভন দেন। বিয়ে করলে স্যার গোপন রাখবেন বলেও আশ^াস দেন। তিনি আমার বাড়ি পর্যন্ত গেছেন। আমি যখন এসব অশ্লীল কথাবার্তা ও কর্মকান্ডের প্রতিবাদ করি তখন সহকারী অন্য শিক্ষকরা বিষয়টি জানতে পারেন। সহকারী শিক্ষকরাও প্রধান শিক্ষককে থেমে যেতে পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু স্যার কারো কথা শোনেননি। বরং প্রতিদিনই বিদ্যালয়ে গেলে উত্যক্ত করেন, বাসায় ফিরে আসলেও দিনে-রাতে ফোনে বিরক্ত করেন। বিদ্যালয় চলাকালীন সুযোগ পেলেই কুরুচীপূর্ণ কথা বলেন। প্রধান শিক্ষক আমাকে উত্যক্ত করেন এ বিষয়টি আমি ২০২৩ সালের ২৮ ডিসেম্বর মৌখিকভাবে উপজেলা শিক্ষা অফিসার ও সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার স্যারকে অবহিত করি। এরপরও কোন ফল পাইনি। তাই চলতি বছর ১০ জানুয়ারি উপজেলা শিক্ষা অফিসে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। শিক্ষা অফিস তদন্ত করেছে। কিন্তু এখনো আমার ভোগান্তি কমেনি। প্রধান শিক্ষক কর্তৃক উত্যক্তের শিকার হয়ে বিচার পাচ্ছি না। অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ আবুল আজাদ সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমার বিরুদ্ধে এসব চক্রান্ত করছে। বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি মোঃ শাহ নেওয়াজ বলেন, আমি ওই নারী শিক্ষকের কাছ থেকে ঘটনাটি শোনার পর কমিটির সদস্যদের পরের দিন স্কুলে আসতে বলি। জানতে পারি শিক্ষা অফিসে লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে। তখনতো আর বিষয়টি আমাদের এখতিয়ারের বাহিরে চলে গেছে। লোহাগড়া উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ মাহবুবুর রহমান জানান, অভিযোগের সত্যতা পেয়ে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গত ১৩ মার্চ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে তদন্ত প্রতিবেদন প্রেরণ করেছি। জঘন্য এ অপরাধের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত। নড়াইল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ জাহাঙ্গীর আলম এ বিষয়ে বলেন, ওই নারী শিক্ষকের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। গত ২৭ মার্চ বিভাগীয় উপপরিচালক (প্রাথমিক শিক্ষা) স্যারের অফিসে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তদন্ত প্রতিবেদন পাঠিয়ে দিয়েছি।

 

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়