রেজাউল করিম, লোহাগড়া
নড়াইলের লোহাগড়া কৃষি নির্ভরশীল উপজেলা। এখানে সোনালি আঁশের কদর বহুদিন ধরেই রয়েছে। তবে বছর পাঁচ-ছয় আগেও সোনালি আঁশের রুপালি কাঠি অবহেলা আর অনাদরে পড়ে থাকতো গ্রামের পথে-ঘাটে বা বাড়ির আঙিনার কোণে। সাধারণত লোকজন মাটির চুলায় রান্না আর পানের বরজের ছাউনি তৈরিতে ব্যবহার করতো পাটকাঠি। বর্তমানে বিভিন্ন কাজে এর চাহিদা বেড়েছে।পাকা সড়ক,মাঠ-ঘাট যেখানে চোখ যায়,সেখানেই চোখে পড়ে পাটকাঠি শুকানো ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজ চলছে। তবে সোনালি আঁশের রুপালি কাঠির বাণিজ্যিক ভাবে বেড়েছে কদর। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফারজানা আক্তার জানান,এ বছর উপজেলায় ১২হাজার ১৬৫ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। ১ হেক্টর জমিতে উৎপাদিত পাট থেকে প্রায় ১৫ হাজার টাকার পাট কাঠি পাওয়া যায়। লোহাগড়ায় পানি সংকটে কারণে কৃষকরা উৎপাদিত পাট জাগ দিতে সমস্যায় পড়েন। তবে পাটের রং ভালো না হওয়ায় বিক্রি করতে হচ্ছে কিছুটা কম দামে। কৃষক সোনালি কাঠিতে সেই ক্ষতির কিছুটা পুষিয়ে নিতে চেষ্টা করছেন। এখন চলছে পাটকাঠির পরিচর্যা ও কেনাবেচার কাজ। দূর-দূরান্ত থেকে ব্যবসায়ীরা এসে কিনছেন রুপালি পাটকাঠি। একশ আটি পাটকাঠি বিক্রি হচ্ছে ৫শ’ থেকে ৬শ’ টাকায়। নোয়াপাড়া গ্রামের কৃষক ইসরাফিল হোসেন বলেন, পাটকাঠি বিক্রিতে আমাদের আয় বেড়েছে। রাজশাহী, বরিশাল, পিরোজপুর থেকে অনেক ব্যবসায়ী পাটকাঠি কিনতে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে আসছে। এ বছর অনেক ব্যবসায়ী এসে একশ আটি পাটকাঠির দাম ২শ’ থেকে ৩শ’ টাকা বললেও আমরা বিক্রি করেনি।রাজশাহীর পাটকাটি ব্যবসায়ী ফরিদুজ্জামান বলেন,রাজশাহীতে পানের বরজে পাটকাঠির চাহিদা অনেক বেশী। তাই এখানে কম দামে পাটকাঠি পাওয়া যায় বলে প্রতি বছর আমরা এ উপজেলায় পাটকাটি কিনতে আসি।

