১৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ৩০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

‘গান বাংলা’ দখলের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হলো তাপসকে

প্রতিদিনের ডেস্ক:
অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে মারধর করে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ‘গান বাংলা’ দখলের অভিযোগের মামলায় প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কৌশিক হোসেন তাপসকে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখিয়েছেন আদালত। সোমবার (৯ ডিসেম্বর) ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জিয়াদুর রহমানের আদালত শুনানি শেষে তাকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন।গত ৪ ডিসেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) হারুনুর রশীদ তাপসকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেন। আসামির উপস্থিতিতে শুনানির জন্য ৯ ডিসেম্বর তারিখ ধার্য করেন আদালত। আজ তাপসকে আদালতে হাজির করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী গ্রেফতার দেখানোর বিষয়ে শুনানি করেন। পরে তাকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন আদালত।গত ২৫ নভেম্বর তাপসসহ পাঁচ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন করেন ব্যবসায়ী সৈয়দ শামস উদ্দিন আহমেদ। আদালত বাদীর জবানবন্দি নিয়ে গুলশান থানার ওসিকে অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন।
মামলায় অন্য আসামিরা হলেন– তাপসের স্ত্রী প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ফারজানা মুন্নী, রবি শংকর মৈত্রী, এম আমানুল্লাহ খান (চঞ্চল খান), সৈয়দ নাবিল আশরাফ। এছাড়া অজ্ঞাত আরও চার জনকে আসামি করা হয়েছে।মামলার বাদী সৈয়দ শামস উদ্দিন আহমেদ অভিযোগে উল্লেখ করেন, ২০১১ সালের ২৫ জুলাই মো. বদরুদ্দোজা সাগর, বখতিয়ার শিকদার ও রবি শংকর মৈত্রী মিলে প্রাইভেট স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল প্রতিষ্ঠার জন্য বার্ডস আই ম্যাস মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশন পিএলসি নামে একটি প্রতিষ্ঠান রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ অ্যান্ড ফার্মসের কার্যালয় থেকে নিবন্ধন নেন। কোম্পানি গঠনের সময় মামলার বাদী ৭ হাজার প্রাথমিক শেয়ার এবং বখতিয়ার শিখদার, রবি শংকর মৈত্রী ও বদরুদ্দোজা সাগর প্রত্যেকে ১ হাজার করে সর্বমোট ১০ হাজার শেয়ার নেন, যার প্রাথমিক মূলধন ১ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়।২০১১ সালের ২২ ডিসেম্বর সৈয়দ সামস বার্ডস আই মাস মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশন পিএলসির চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং গান বাংলা স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেলের (প্রস্তাবিত) ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্বে থাকার সময় আসামিদের অনুরোধে আমানুল্লাহ খানের বাসায় যান।এতে আরও বলা হয়, আনুমানিক রাত ৮টার দিকে আসামি কৌশিক হোসেন তাপস, ফারজানা মুন্নী, সৈয়দ নাবিল আশরাফসহ অজ্ঞাত চার-পাঁচ জন কিছু কাগজ নিয়ে সেখানে উপস্থিত হন। তাপস ও নাবিল আশরাফের হাতে থাকা অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে সব আসামির সহযোগিতায় সৈয়দ শামস উদ্দিন আহমেদ ও মো. বদরুদ্দোজা সাগরকে কাগজপত্রে স্বাক্ষর করতে বলে।অভিযোগে আরও বলা হয়, আটকাবস্থায় আসামিদের কথাবার্তায় বাদী বুঝতে পারেন, আসামিরা বার্ডস আই ম্যাস মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশন পিএলসি নামে কোম্পানিতে বাদী ও বদরুদ্দোজা সাগরের ৮ হাজার শেয়ারের মালিকানা আত্মসাৎ করবে। এক পর্যায়ে বাদী ও মো. বদরুদ্দোজা সাগর প্রাণনাশের ভয়ে ভীত হয়ে প্রাণে বাঁচতে কাগজে স্বাক্ষর করেন। স্বাক্ষর নেওয়ার পর আসামিরা বিভিন্ন কাগজপত্রে স্বাক্ষর গ্রহণের বিষয়ে কারও কাছে কোনও তথ্য প্রকাশ করলে তৎকালীন প্রশাসনকে অবৈধভাবে প্রভাবিত করে মামলায় জড়াবে এবং প্রয়োজনে জীবন শেষ করে দেবে বলে হুমকি দেয়।গত ৪ নভেম্বর রাজধানীর উত্তরা থেকে তাপসকে গ্রেফতার করা হয়। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ইশতিয়াক মাহমুদ নামে এক ব্যবসায়ীকে হত্যাচেষ্টার মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে তাকে রিমান্ডে নেওয়া হয়। রিমান্ড শেষে তিনি কারাগারে আছেন।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়