যেভাবে গাভীটি ফিরে পেলেন বিধবা মমতাজ বেগম

নিজস্ব প্রতিবেদক
আগের রাতের বৃষ্টি আশীর্বাদ হলো চুড়ামনকাঠির বিধবা মমতাজ বেগমের। চুরি হওয়া দুগ্ধজাত গাভীর পায়ের দাগ দেখি ৫ কিলোমিটার হেঁটে ঠিকই পেয়ে গেলন তার সংসার নির্বাহের একমাত্র সম্বল গাভীটি। সেই সাথে তার দেখানো লোক আশরাফুল ইসলামকে পাকড়াও করে স্থানীয়রা দিয়েছে পুলিশে। তার নাম সে গাভী চুরির কথা স্বীকারও করেছে। এইও জানিয়েছে তার সাথে গ্রামের আরও দু’জন চুরিতে জড়িত। যদিও তাদের ধরা যায়নি। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অসহায় এই বিধবা এলাকার মৃত আবু তাহেরের স্ত্রী। চোর আশরাফুল বাগডাঙা গ্রামের মৃত মহিউদ্দিনের ছেলে। ভুক্তভোগী নারী ও স্থানীয়রা জানান-সোমবার দিবাগত রাতের কোনো এক সময় গাভীটি চুরি হয়। এ সময় মমতাজ বেগম বাছুরের ডাক শুনে ঘুম থেকে উঠে দেখতে পান গাভীটি নেই। তিনি তাৎক্ষণিক পাড়া-প্রতিবেশিদের ডেকে জড়ো করেন। এরআগের দিন বৃষ্টি হয়েছিল। রাস্তায় কাদা ছিল। সেই কাদায় গাভীর পায়ের ছাপ দেখতে পেয়ে আশার আলো দেখতে পান মমতাজ বেগম। তিনি গরুর পায়ের ছাপ দেখে হাঁটতে শুরু করেন। সকালে বাগডাঙা গ্রামে গিয়ে পৌঁছান। সেখানেই পায়ের ছাপ থেমে যায়। তখন আশপাশে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন আশরাফুলের গোপন গোয়ালঘরে গাভীটি রাখা রয়েছে। এলাকাবাসীর সহায়তায় গাভীটি উদ্ধার ও চোরকে ধরে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। এলাকাবাসী আশরাফুল পাকড়াও করে দু’চার চড় থাপ্পড় দিলে সে গাভীর চুরির কথা স্বীকার করেন। একই গ্রামের রিপন ও ইমন মিলে গরুটি চুরি করেন। তিনি আরও জানান, তারা আগেও একাধিক চুরির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। সাজিয়ালী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আব্দুর রউফ জানান, অভিযুক্ত আশরাফুলকে আটক করে থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। গরুর মালিক মামলা করতে রাজি না হওয়ায় এলাকাবাসীর সহযোগিতায় গাভীটি মমতাজ বেগমের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়