১৬ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ২৯শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

আইন-শৃঙ্খলাই বড় চ্যালেঞ্জ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণের সময় যত নিকটে আসছে, আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে প্রার্থী ও ভোটারদের আশঙ্কা তত প্রবল হচ্ছে। এরই মধ্যে সম্ভাব্য দুজন প্রার্থী বন্দুক হামলার মুখোমুখি হয়েছেন। একজন ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদি অত্যন্ত সংকটজনক অবস্থায় সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃতুবরণ করেছেন। অপরজন চট্টগ্রাম-৮ আসন থেকে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এরশাদউল্লাহ। গত ৫ নভেম্বর সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের চালিতাতলীতে গণসংযোগের সময় সন্ত্রাসীরা গুলি চালালে এরশাদউল্লাহসহ তিনজন গুলিবিদ্ধ হন এবং একজন নিহত হন। এ ছাড়া বিভিন্ন জায়গায় হামলা ও সংঘাতের ঘটনা ঘটেছে। নির্বাচন ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, দ্রুত আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন করা না গেলে নির্বাচনের স্বতঃস্ফূর্ততা নষ্ট হবে। মানুষ নির্বাচনের প্রচারণা ও মিটিং-মিছিলে অংশ নিতে ভয় পাবে। এরই মধ্যে একজন সম্ভাব্য প্রার্থী নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। প্রকাশিত খবরে জানা যায়, গত মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে নারায়ণগঞ্জ-৫ (শহর-বন্দর) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মাসুদুজ্জামান মাসুদ নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়ে বলেন, ‘পারিবারিক ও নিরাপত্তাসহ একাধিক কারণে আমি এই নির্বাচন থেকে সরে যাচ্ছি।’ অনেকেই স্বতঃস্ফূর্ততার সঙ্গে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যেতে পারছেন না বলে স্বীকার করেছেন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে ভোটগ্রহণ। বাকি দেড় মাসের মতো। প্রার্থীদের জনসংযোগ চালিয়ে যাওয়ার এখনই মোক্ষম সময়। গ্রামগঞ্জে, হাটবাজারে, চায়ের দোকানসহ সর্বত্র ছড়িয়ে যাবে নির্বাচনী আমেজ। সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা। কিন্তু এবার সেই পরিবেশের কিছুটা হলেও অভাব দেখা যাচ্ছে।
নির্বাচনী প্রচারণায় স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের ঘাটতি লক্ষ করা যাচ্ছে। এর প্রধান কারণ আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি। ফলে জনমনে নির্বাচন নিয়েও এক ধরনের সংশয় কাজ করছে। সরকার প্রার্থীদের নিরাপত্তার শঙ্কা কাটাতে নানা ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে। শঙ্কায় থাকা প্রার্থীদের দ্রুত আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে ২০ জন প্রার্থী লাইসেন্সের জন্য আবেদনও করেছেন। প্রার্থীদের আবেদন এবং পরিস্থিতি বিবেচনায় সার্বক্ষণিক গানম্যান দেওয়ারও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) এস এন মো. নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, যেসব প্রার্থীর নিরাপত্তাঝুঁকি বেশি, তাঁরা সার্বক্ষণিক গানম্যান পাবেন। এ ক্ষেত্রে জুলাই যোদ্ধা ও অতিঝুঁকিতে থাকা প্রার্থীরা অগ্রাধিকার পাবেন। অপরাধ ও আইন-শৃঙ্খলা বিশেষজ্ঞদের মতে, জাতীয় নির্বাচনের আগে আগে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির কিছুটা খারাপ হয়। এর ওপর গত বছরের ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের সময় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর লুট হওয়া আগ্নেয়াস্ত্রের একটি বড় অংশ এখনো উদ্ধার না হওয়া, সীমান্ত দিয়ে প্রচুর আগ্নেয়াস্ত্র চোরাচালান হয়ে আসাসহ নানা কারণে এ বছর নির্বাচনকালীন ঝুঁকি অনেক বেড়ে গেছে। অন্যদিকে কারাগারে থাকা অনেক শীর্ষ সন্ত্রাসী জামিনে বেরিয়ে এসে নতুন করে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ শুরু করেছে। ফলে পরিস্থিতির আরো বেশি অবনতি হচ্ছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান যথার্থই বলেছেন, দেশে ষড়যন্ত্র থেমে নেই, এই নির্বাচনও খুব সহজ হবে না। আমরা আশাবাদী, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে সরকার দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে এবং আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে বাংলাদেশের নির্বাচনের ইতিহাসে সবচেয়ে অবাধ, শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়