১৬ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ২৯শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

স্বাগত তারেক রহমান

প্রিয় নেতা ফিরছেন। দেশে আনন্দের জোয়ার বইছে। সারা দেশ থেকে জনস্রোত আজ কেবলই ঢাকামুখী। প্রিয় নেতাকে একনজর দেখার আকাঙ্ক্ষায় তীব্র শীত উপেক্ষা করে মানুষ ছুটে আসছে।দীর্ঘ ১৭ বছরের বেশি সময় নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে আজ দেশে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এই মাহেন্দ্রক্ষণের সাক্ষী হতে চায় দেশের নানা শ্রেণি-পেশার, নানা বয়সের মানুষ। সবাই প্রিয় নেতার প্রত্যাবর্তনের ঐতিহাসিক মুহূর্তটির সাক্ষী হতে চায়।প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, এরই মধ্যে কয়েক লাখ মানুষ ঢাকায় এসেছে।গতকাল বুধবারও সবার গন্তব্য ছিল ঢাকা। বাস, ট্রেন, লঞ্চসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহনে তিলধারণের ঠাঁই ছিল না। তারেক রহমানের এই স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে স্মরণীয় করে রাখতে তাঁর সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ৫০ লাখ মানুষের সমাগমের প্রত্যাশা করছে বিএনপি। বিএনপির দলীয় সূত্র জানায়, আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা ৫৫ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তারেক রহমানকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের নিয়মিত ফ্লাইটটির অবতরণের কথা রয়েছে।
তাঁকে বহন করা ফ্লাইটটি সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রাবিরতি দিয়ে ঢাকায় পৌঁছবে। তারেক রহমানের সঙ্গে থাকবেন তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, কন্যা জাইমা রহমানসহ আরো কয়েকজন। বিমানবন্দরে পৌঁছলে দলের শীর্ষস্থানী নেতারা তারেক রহমানকে স্বাগত জানাবেন। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বিমানবন্দর থেকে ৩০০ ফুট সড়কের গণসংবর্ধনাস্থলে আসবেন এবং সেখান থেকে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মা বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে দেখতে যাবেন।তারেক রহমানের এই স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে ঐতিহাসিক ও স্মরণীয় করে রাখতে সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি।
শুধু দলের নেতাকর্মীই নন, সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এদিন রাজধানী ঢাকা জনসমুদ্রে পরিণত হবে বলে আশা করছেন দলের নেতারা। দেশের গণমাধ্যম অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় আছে এই মাহেন্দ্রক্ষণটিকে ধারণ করার জন্য। কালের কণ্ঠ তাঁর প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করেছে। একই ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে আরো কিছু গণমাধ্যম।তারেক রহমানের সংবর্ধনায় মানুষের মহামিলন হবে বলে মনে করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী। বুধবার সংবর্ধনা মঞ্চের কাজের অগ্রগতি পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, তারেক রহমান দেশে এলে তাঁর নিরাপত্তা নিয়ে বিশেষ কোনো ঝুঁকির তথ্য নেই। তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাঁর নিরাপত্তায় কোথাও যেন কোনো ফাঁক না থাকে, এই বিষয়টি ভালোভাবে তদারকি করতেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর তৎকালীন ‘ওয়ান-ইলেভেন’ খ্যাত সরকার নির্মম নির্যাতনের পর তারেক রহমানকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করেছিল। আজ ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর তিনি ফিরছেন। মাঝখানে কেটে গেছে ১৭ বছর তিন মাস ১৪ দিন।
দীর্ঘ এই সময়ে নির্যাতনে অসুস্থ হয়ে নিজে ছিলেন চিকিৎসাধীন, ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনের কারণে প্রিয় ছোট ভাইকে হারিয়েছেন। মাকে দেখেছেন কারাবন্দি হতে। দেখেছেন হাজার হাজার নেতাকর্মীর গুম-খুন ও হামলা-মামলা। প্রতি মুহূর্তে সহ্য করেছেন জন্মভূমিতে ফিরতে না পারার অসহ্য যন্ত্রণা। প্রতি মুহূর্তে তারেক রহমানের মন কেঁদেছে মাতৃভূমিতে ফিরে আসতে, পারেননি। অবশেষে আজ শেষ হচ্ছে তাঁর সেই দীর্ঘ প্রতীক্ষা।স্বাগত, সুস্বাগত জনমানুষের নেতা তারেক রহমান। আমরা আপনার সুস্বাস্থ্য কামনা করছি। আশা করছি, আপনার নেতৃত্বে পথ হারানো বাংলাদেশ আবার পথের দিশা ফিরে পাবে।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়