৫ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ১৮ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

জনপ্রত্যাশার পাহাড়ে তারেক রহমান

বাংলাদেশ আজ এক চরম ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। দেশে অনির্বাচিত অন্তর্বর্তী সরকার। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি চরম পর্যায়ে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না।বিনিয়োগ নেই। চালু কলকারখানাও বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। গ্যাস-বিদ্যুতের অভাবে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। বেকারত্ব আকাশ ছুঁয়েছে।
এর মধ্যে একটি গোষ্ঠী মব সৃষ্টি করে সহিংসতা করছে। নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন সাধারণ মানুষ। এমন পরিস্থিতিতে এক বিশাল চ্যালেঞ্জ মাথায় নিয়ে দেশে ফিরেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ১৭ বছরের বেশি সময় পর তাঁর দেশে ফেরায় উচ্ছ্বসিত তাঁর দল, রাজনীতির অঙ্গন ও দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষ।কিন্তু তিনি সেই বিপুল চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় কতটা সক্ষম হবেন, তা নিয়ে সংশয়ও আছে।
মার্টিন লুথার কিং যেমন বলেছিলেন, ‘আই হ্যাভ আ ড্রিম’, একইভাবে তারেক রহমান বললেন, ‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান’। গত বৃহস্পতিবার লন্ডন থেকে দেশে ফিরে তারেক রহমান প্রথমেই গিয়েছিলেন রাজধানীর পূর্বাচলের ৩০০ ফুট সড়কে আয়োজিত বিশাল গণসংবর্ধনায়। অর্ধকোটি মানুষের বিশাল জনসমাবেশে তিনি মানুষকে আশ্বস্ত করে বললেন, ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের একজন সদস্য হিসেবে আপনাদের সামনে আমি বলতে চাই, আই হ্যাভ আ প্ল্যান, ফর দ্য পিপল অব মাই কান্ট্রি, ফর মাই কান্ট্রি। এই পরিকল্পনা দেশের মানুষের স্বার্থে, দেশের উন্নয়নের জন্য, দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য।
’ আর এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে তিনি সবার সহযোগিতা চান।
যেকোনো মূল্যে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহবান জানিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা যে ধর্মের মানুষ হই, যে শ্রেণির মানুষ হই, যে রাজনৈতিক দলের সদস্য হই অথবা একজন নির্দলীয় ব্যক্তি হই, আমাদের নিশ্চিত করতে হবে, যেকোনো মূল্যে আমাদের এই দেশের শান্তি-শৃঙ্খলাকে ধরে রাখতে হবে। যেকোনো মূল্যে যেকোনো বিশৃঙ্খলাকে পরিত্যাগ করতে হবে। যেকোনো মূল্যে আমাদের নিশ্চিত করতে হবে, যাতে মানুষ নিরাপদ থাকতে পারে।’ তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের মানুষ কথা বলার অধিকার ফিরে পেতে চায়। তারা তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পেতে চায়। বাংলাদেশের মানুষ চায়, তারা তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী ন্যায্য অধিকার পাবে।
তারেক রহমান ইনকিলাব মঞ্চের ওসমান হাদির কথা স্মরণ করে বলেন, কয়েক দিন আগে এই বাংলাদেশের চব্বিশের আন্দোলনের সাহসী প্রজন্মের এক সাহসী সদস্য ওসমান হাদিকে হত্যা করা হয়েছে। ওসমান হাদি শহীদ হয়েছেন। ওসমান হাদি চেয়েছিলেন, এ দেশের মানুষের জন্য গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হোক। চব্বিশের আন্দোলনে যাঁরা শহীদ হয়েছেন ওসমান হাদিসহ, ১৯৭১ সালে যাঁরা শহীদ হয়েছেন, বিগত স্বৈরাচারের সময় বিভিন্নভাবে খুন-গুমের শিকার হয়েছেন, সবার রক্তের ঋণ যদি শোধ করতে হয়, তাঁদের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ আমাদের গড়ে তুলতে হবে।
তারেক রহমান বাংলাদেশের এক ঐতিহ্যবাহী পরিবারের সদস্য। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণের রূপকার শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান তাঁর বাবা। আপসহীন নেত্রী হিসেবে পরিচিত খালেদা জিয়া তাঁর মা। গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকারের প্রশ্নে তিনি কখনো আপস করেননি। সেই পরিবারের সন্তান হিসেবে তারেক রহমানের ওপর মানুষের এমন আস্থা ও বিশ্বাস থাকাটাই স্বাভাবিক। আমাদের বিশ্বাস, তারেক রহমান পথ হারানো বাংলাদেশকে আবার পথের দিশা দিতে সক্ষম হবেন। এ দেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে মা-বাবার মতোই তিনি আপসহীন থাকবেন। তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে, সমৃদ্ধিশালী হবে—এমনটাই আমাদের প্রত্যাশা।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়