৫ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ১৮ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

অভয়নগরে ভৈরব তীরের বিষবাষ্প থামাতে অভিযান: ৭৪ টি কয়লা চুল্লি গুঁড়িয়ে দেয়ায় উচ্ছ্বাস

নিজস্ব প্রতিবেদক
দীর্ঘদিন ধরে ভৈরব নদের পাড় ঘেঁষে চলছিল অবাধ কাঠ পোড়ানো আর কয়লা উৎপাদনের রমরমা ব্যবসা। প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় গড়ে ওঠা সেই অবৈধ চুল্লিগুলোর বিরুদ্ধে অবশেষে কঠোর অবস্থানে গেল প্রশাসন। যশোরের অভয়নগর উপজেলায় সোমবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত টানা অভিযানে ৭৪টি অবৈধ কয়লা চুল্লি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এ সময় স্থানীয়রা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।
উপজেলার সিদ্দিপাশা ইউনিয়নে ভৈরব নদের তীরবর্তী এলাকায় পরিচালিত এই অভিযানে নেতৃত্ব দেন খুলনা পরিবেশ অধিদপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মমতাজ বেগম। অভিযানে সহায়তা করে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন ও নওয়াপাড়া ফায়ার সার্ভিস। প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, অভিযানে স্কেভেটর দিয়ে ধূলগ্রামের ফারুক হাওলাদারের ১৪টি, শ্মশানঘাট এলাকার ১৮টি এবং নলামারা গ্রামের ২৮টিসহ মোট ৭৪টি কয়লা চুল্লি সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে এসব চুল্লিতে বনজ ও ফলদ গাছ কেটে কাঠ সরবরাহ করে কয়লা উৎপাদন চলছিল। চুল্লি থেকে নির্গত ঘন ধোঁয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা পড়ছিলেন মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল পরিবেশ, ফসলি জমি ও জীববৈচিত্র্য। শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগে আক্রান্ত হওয়ার অভিযোগ তুলে দীর্ঘদিন ধরেই এসব অবৈধ চুল্লি উচ্ছেদের দাবি জানিয়ে আসছিল স্থানীয়রা। অভিযান শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মমতাজ বেগম বলেন, “বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। সিদ্দিপাশা এলাকায় ২০০টিরও বেশি চুল্লিতে বছরের পর বছর কাঠ পুড়িয়ে কয়লা তৈরি করা হচ্ছিল। এতে ভয়াবহভাবে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। আজ প্রাথমিকভাবে ৭৪টি চুল্লি ভেঙে ফেলা হয়েছে। পরিবেশ ধ্বংস করে এ ধরনের ব্যবসা করার কোনো সুযোগ নেই। অভিযান অব্যাহত থাকবে।” স্থানীয়দের দাবি, ভৈরব নদের দুপাশের সিদ্দিপাশা, প্রেমবাগ, চেঙ্গুটিয়া, চাঁদখালি ও পেরুলি গ্রামে এখনও শত শত অবৈধ চুল্লি সক্রিয় রয়েছে। এসব চুল্লির ধোঁয়ায় গাছপালায় মড়ক দেখা দিয়েছে, ফল ও মুকুল নষ্ট হচ্ছে, জনবসতিপূর্ণ এলাকায় বসবাস ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুস সালাম বলেন, “চুল্লি মালিকরা কারও কথা শোনে না। দিনের পর দিন রাস্তার পাশেই কাঠ পুড়িয়ে কয়লা বানাচ্ছে। একদিকে বন উজাড় হচ্ছে, অন্যদিকে মানুষ শ্বাস নিতে পারছে না। আমরা বহুবার মানববন্ধন করেছি। আজ অভিযান হওয়ায় কিছুটা স্বস্তি মিলেছে।” স্থানীয়রা দ্রুত অবশিষ্ট অবৈধ চুল্লিগুলোও উচ্ছেদের দাবি জানিয়েছেন।

 

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়