২২শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ  । ৭ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

তারেক রহমানের ঐক্যের ডাক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অভাবনীয় বিজয়ের পর দেশ গঠনে ঐক্যের ডাক দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সব রকম ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে জাতীয় প্রয়োজনে সব পক্ষের সহযোগিতা কামনা করেছেন তিনি। তাঁর কথায়—ঐক্য হলো শক্তি, আর বিভাজন দুর্বলতা। আমরা মনে করি, জাতির এই ক্রান্তিলগ্নে তারেক রহমানের এই বার্তা অত্যন্ত সময়োপযোগী ও জরুরি। স্বৈরাচার শেখ হাসিনার আমল তো বটেই, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেও দেশের অর্থনীতির চাকা সচল হয়নি। একের পর এক কলকারখানা বন্ধ হয়েছে। নতুন বিনিয়োগের গতি কমেছে। বেকারত্বের হার ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।
আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। মব সংস্কৃতি হয়ে উঠেছিল নিত্যদিনের খবর। এককথায় বলতে গেলে, দেশের মানুষ দুবেলা দুমুঠো খেয়ে নিরাপদে ঘুমাতে পারেনি। সবার অপেক্ষা ছিল—কখন একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং দেশের শাসনভার নেবে গণান্ত্রিক শক্তি। বিএনপির নিরঙ্কুশ বিজয়ের মধ্য দিয়ে বলা যায়, সেই প্রত্যাশার প্রথম ধাপ পূরণ হয়েছে।
নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর গত রবিবার প্রথম সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন তারেক রহমান। নির্ধারিত বক্তব্যের পর সেখানে দেশি-বিদেশি সাংবাদিকদের নানা প্রশ্নের জবাব দেন তিনি। কালের কণ্ঠে এসংক্রান্ত প্রতিবেদনে জানা গেছে, তারেক রহমান মূলত গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয়ের ওপর জোর দিয়েছেন। এর মধ্যে আছে, যেকোনো মূল্যে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে হবে।
অপশক্তি প্রতিরোধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। এ ছাড়া যোগ্যতা ও মেধার ভিত্তিতে সবাই সবার ব্যবসা-বাণিজ্য করার সুযোগ পাবেন। তিনি বলেছেন, দেশের স্বার্থ রক্ষাই হবে নতুন সরকারের পররাষ্ট্রনীতি। বলার অপেক্ষা রাখে না, এসব নীতির সঙ্গে মতবিরোধের কোনো সুযোগ নেই। তবে এসব জরুরি পদক্ষেপ বাস্তবায়নে রয়েছে বিস্তর চ্যালেঞ্জ। সেটি তারেক রহমানও অনুধাবন করেছেন। এ কারণেই তিনি বিভাজন ভুলে ঐক্যের আহবান জানিয়েছেন।
গণতান্ত্রিক পরিবেশে মতবিরোধ থাকবে, এটি গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। কিন্তু নির্বাচনের পর সব পক্ষ জনরায় মেনে নেবে—এটিও গণতান্ত্রিক রেওয়াজ। এবার সীমিত পরিসরে হলেও এমন দৃষ্টান্ত আমরা দেখছি। বিজয়ীরা পরাজিত প্রার্থীদের সঙ্গে দেখা করেছেন, কুশল বিনিময় করেছেন। পরাজিত অনেক প্রার্থীও বিজয়ী প্রার্থীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। এমন পরিবেশ সমাজে ইতিবাচক বার্তাই দেয়। তবে এর উল্টো খবরও এসেছে। বেশ কিছু জায়গায় নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা হয়েছে। কালের কণ্ঠের প্রতিবেদন বলছে, নির্বাচন-পরবর্তী দুই দিনে ৭৬টি সংঘাতের ঘটনায় দুজন নিহত হয়েছে। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ সময় বৃহত্তর রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে বিএনপিকে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে। কালের কণ্ঠে প্রকাশিত অপর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামীকাল মঙ্গলবার নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীদের শপথ অনুষ্ঠিত হবে। অর্থাৎ শিগগিরই দেশবাসী নতুন সরকার পেতে যাচ্ছে।
আমাদের প্রত্যাশা, নতুন জনপ্রতিনিধিরা দায়িত্ব গ্রহণের পর জনগণের চাওয়া-পাওয়া ভুলে যাবেন না; নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে আন্তরিক হবেন। সর্বোপরি, তারেক রহমানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে সব রাজনৈতিক শক্তি সুন্দর ও সফল বাংলাদেশ গড়ে তুলবে—আমাদের সবার চাওয়া এটিই।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়