মাসুম বিল্লাহ, কেশবপুর
মধ্যপ্রাচ্য সংকটের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির আশঙ্কা ও সরবরাহ কমে যাওয়ার গুজবে যশোরের কেশবপুর শহরের পাম্পগুলোতে জ্বালানি তেল নেয়ার তীব্র হিড়িক পড়েছে। এর প্রভাবে তিনটি পাম্পের দুটিই ইতিমধ্যে তেল শূন্য হয়ে পড়েছে। জানা গেছে, ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে তৈরি হওয়া জ্বালানি সংকটের আতঙ্ক এখন কেশবপুরের পাম্পগুলোতে। গত শুক্রবার (৬ মার্চ) পেট্রোল পাম্পগুলোতে দেখা গেছে ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরসাইকেলের উপচে পড়া ভীড়। আগের রাতেও ছিল একই চিত্র। শনিবার সকাল গিয়ে দেখা যায়, পেট্রোল পাম্পে বিভিন্ন যানবাহনের দীর্ঘ লাইন। আধাঘন্টা সিরিয়ালের পর মিলছে তেল। যে কারণে শনিবার সকালেই তেল শূন্য হয়ে পড়েছে দেশ ফুয়েল পাম্প ও এমভি ফুয়েল পাম্প। এই বন্ধ দুই পাম্পের চাপ পড়ছে কেশবপুর ফিলিং স্টেশনের ওপর। এভাবে তেল নিতে থাকলে দুপুরের মধ্যে কেশবপুর ফুয়েল পাম্পেরও তেল শূন্য হয়ে যাবে। এমুহূর্তে যার ১০০ টাকার তেলের প্রয়োজন তিনি ট্যাঙ্কি ফুল করে নিচ্ছেন। কেশবপুরে দীর্ঘ লাইনে আতঙ্কিত গ্রাহকরা অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ করছেন। পাম্প কর্মীরা বলছেন, দাম বাড়তে পারে এমন কোনো আশঙ্কা বা নির্দেশনা এখনো নেই তাদের। হুজুগে পড়ে সবাই বাড়তি তেল কিনছেন। ফলে পাম্পে চাপ পড়ছে। রেজাউল ইসলাম নামে এক গ্রাহক বলছেন, নরমালি যখন যা দরকার তখন তেল নেই। ক্রাইসিস পড়তে পারে এই মনে করে ১ হাজার ৮০ টাকায় টাংকি ফুল করে নিলাম। কেশবপুর এমভি ফিলিং স্টেশনের মালিক অনিক ঘোষ জানান, যার ৫০ টাকার তেলে প্রয়োজন সে ট্রাঙ্কি ফুল করে নিয়ে গেছে। যে কারণে সংকটে পাম্প সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এপাম্পের মত দেশ ফুয়েল পাম্পেরও একই অবস্থা। কেশবপুর ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার প্রতাপ মজুমদার বলেন, তার পাম্পে প্রতিদিন পেট্রোল, অকটেন মিলে ১৩‘শ থেকে ১৪‘শ লিটার ও ডিজেল ৩৫ হাজার লিটার প্রয়োজন। গত ২/৩ দিনে প্রতিদিন পেট্রোল, অকটেন মিলে ২৫‘শ থেকে ২৬‘শ লিটার ও ডিজেল ৪ হাজার থেকে ৪২ হাজার লিটার প্রয়োজন হচ্ছে। অন্য দুই পাম্প বন্ধ থাকায় সমস্ত চাপ আমাদের ওপর পড়ছে। এভাবে তেল নিতে থাকলে দুপুরের পরপরই তেল শেষ হয়ে যাবে। হঠাৎ চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় সংকট দেখা দিয়েছে। কেশবপুরের হঠাৎ সৃষ্ট জ্বালানি তেলের সংকট মোবিলায় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় থেকে প্রতি মোটরসাইকেল ২ লিটার, প্রাইভেটকার অকটেন/পেট্রোল ১০ লিটার, এসইউভি/জিপ/মাইক্রোবাস অকটেন/পেট্রোল ১২০ থেকে ২৫ লিটার, পিকআপ/লোকাল বাস ডিজেল ৭০ থেকে ৮০ লিটার ও দূরপাল্লার বাস/ট্রাক ডিজেল ২০০ থেকে ২২০ লিটার পর্যন্ত দেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

