মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সংঘাতময় পরিস্থিতি এককথায় উদ্বেগজনক। ওই অঞ্চলে প্রায় প্রতিদিনই কোনো না কোনো দেশে জ্বালানি ক্ষেত্র লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হচ্ছে। এতে বিপুল আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি অবকাঠামো ধ্বংস হচ্ছে। বলা হচ্ছে, সংঘাত থেমে গেলেও এসব অবকাঠামো সংস্কার করতে অন্তত বছর পাঁচেক সময় লাগতে পারে।আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক মহল সতর্ক করেছেন, ইতিহাসের ভয়াবহ জ্বালানিসংকটের মুখে পড়তে যাচ্ছে বিশ্ব। বলা বহুল, এই সংকটের ধাক্কা বাংলাদেশেও লাগবে। মধ্যপ্রাচ্যে এই অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, শিগগিরই উত্তেজনা প্রশমিত হবে না।এরই মধ্যে বিশ্বজুড়ে এই সংঘাতের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে জ্বালানি বাজারে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। এদিকে পরিস্থিতি বিবেচনায় বাংলাদেশ সরকার শুরু থেকেই সাশ্রয়ী কৌশল অবলম্বন করেছে। জ্বালানি সরবরাহে রেশনিং পদ্ধতি চালু করেছে। যদিও ঈদ উপলক্ষে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে বলে সরকারের তরফ থেকে বলা হয়েছে। তবে মাঠের পরিস্থিতি পুরোই ভিন্ন। গ্রাহকরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও তেল সংগ্রহ করতে পারছে না। কোথাও তেলের অভাবে পাম্প বন্ধ রাখা হয়েছে।সরকার আগেও বলেছে দেশে জ্বালানিসংকট নেই; এখনো বলছে নেই।
সর্বশেষ গতকাল মঙ্গলবার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, ‘জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে, কোনো সংকট হবে না।’ তবে তিনি জনগণকে অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ না করার আহবান জানিয়েছেন। অন্যদিকে বাংলাদেশ পেট্রলপাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন শঙ্কা প্রকাশ করেছে, যেকোনো সময় দেশের সব পেট্রলপাম্প বন্ধ হয়ে যেতে পারে। ২২ মার্চ রাতে এক বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটি এমন উদ্বেগের কথা জানায়। তাদের দাবি, সারা দেশের পেট্রলপাম্পগুলোর অবস্থা খুবই করুণ। কম্পানি থেকে প্রাপ্ত তেল দিয়ে ক্রেতাদের চাহিদা পূরণ করা যাচ্ছে না। কালের কণ্ঠে অনলাইনে প্রকাশিত খবরে এমন চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
বাংলাদেশের জ্বালানি খাত প্রায় পুরোটাই আমদানিনির্ভর। এর বড় অংশ আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে। সংগত কারণেই চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি দেশের জ্বালানি খাতে টানাপোড়েন তৈরি করবে। কাজেই চলমান সংকট পাড়ি দিতে হলে সরকারের সাশ্রয়ী কৌশলের পাশাপাশি জনসাধারণকেও জ্বালানি ব্যবহারে সংযমী হতে হবে। এ ছাড়া সুযোগসন্ধানী কোনো মহল যেন তৎপর হয়ে বাড়তি অস্থিরতা তৈরি না করতে পারে, সরকারকে সেটিও খেয়াল রাখতে হবে। পাশাপাশি দীর্ঘ মেয়াদে সংকট মোকাবেলায় সরকারকে ভিন্ন উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় রাখতে হবে।

