৬ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ১৯শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

ট্রাম্পের ভোল বদল: এক পোস্টেই ফের বন্ধ হরমুজের দুয়ার!

প্রতিদিনের ডেস্ক:
মাত্র একদিনে কত কিছুই না ঘটে গেলো! অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালি সচল হলো, তার জন্য ইরানকে ‘ধন্যবাদ’ জানিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প; কিছুক্ষণ পরেই আবার জানালেন, ইরানি বন্দরের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ চলবে; এর জবাবে আবারও হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে ইরান।ঘটনার সূত্রপাত গত শুক্রবার (১৭ এপ্রিল)। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ঘোষণা দেন, হরমুজ প্রণালি জাহাজ চলাচলের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত। তার এই ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘ধন্যবাদ’ জানিয়ে পোস্ট করেন। মুহূর্তের মধ্যেই বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ১০ শতাংশ কমে যায়।কিন্তু ভোল বদলাতে দেরি করেনি ট্রাম্প। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তিনি ঘোষণা দেন, ইরানের সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ইরানি বন্দরে মার্কিন নৌ-অবরোধ পূর্ণ শক্তিতে বহাল থাকবে।
ট্রাম্পের এই অনড় অবস্থানের জেরে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) আবারও প্রণালিটি বন্ধ করার ঘোষণা দেয়। এক বিবৃতিতে তারা জানায়, মার্কিন অবরোধ বহাল থাকা অবস্থায় হরমুজ প্রণালির দিকে আসা যে কোনো জাহাজকে শত্রুপক্ষ হিসেবে বিবেচনা করা হবে এবং তাদের লক্ষ্যবস্তু বানানো হবে।শনিবার ইরানি সামরিক বাহিনীও জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ চলমান থাকলে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত থাকবে। একই দিনে ওমান উপকূল থেকে প্রায় ২০ মাইল দূরে দুটি জাহাজে গুলির ঘটনা ঘটে, যেখানে ইরানি গানবোট জড়িত ছিল বলে জাহাজের ক্যাপ্টেন দাবি করেছেন।এদিকে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির নামে প্রচারিত এক বিরল বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দেশটির নৌবাহিনী ‘শত্রুকে নতুন পরাজয়ের তিক্ত স্বাদ দিতে প্রস্তুত’। প্রায় ছয় সপ্তাহ ধরে জনসমক্ষে না আসা খামেনির এই বার্তা উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে।অন্যদিকে ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা ‘খুব ভালোভাবেই এগোচ্ছে’। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রকে ব্ল্যাকমেইল করা যাবে না।ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে, তবে এখনো কোনো জবাব দেয়নি।দুই পক্ষের মধ্যে প্রধান মতবিরোধ রয়ে গেছে ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তর এবং চলমান পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে। যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হতে আর মাত্র তিনদিন বাকি থাকলেও, এটি বাড়ানো হবে কি না তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, যুদ্ধবিরতি বাড়ানো না-ও হতে পারে। সেক্ষেত্রে অবরোধ অব্যাহত থাকবে এবং পরিস্থিতি খারাপ হলে আবার হামলা শুরু হতে পারে।ইরানের পক্ষ থেকেও আপসের ইঙ্গিত খুব একটা দেখা যাচ্ছে না। দেশটির জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাকদি বলেছেন, যুদ্ধ আবার শুরু হলে তারা সদ্য তৈরি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করবে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ইরান চাইলে তেল উৎপাদন বন্ধ করতে পারে, তবে বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা এড়াতে তারা এখন পর্যন্ত সংযম দেখিয়ে যাচ্ছে।যদিও পর্দার আড়ালে আলোচনা চলার ইঙ্গিত ঠিকই মিলছে। শনিবার হোয়াইট হাউজ মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী, সিআইএ প্রধানসহ শীর্ষ কর্মকর্তাদের উপস্থিতি সেদিকেই ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে দ্বিতীয় দফার আলোচনা আদৌ হবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়