প্রতিদিনের ডেস্ক
মহাকাশ প্রেমীদের জন্য চমৎকার মহাজাগতিক দৃশ্য। যুক্তরাষ্ট্রের আকাশে দেখা গেছে ‘এটা অ্যাকুয়ারিড’ উল্কাবৃষ্টি। সোসাইটির ফায়ারবল রিপোর্ট সমন্বয়কারী রবার্ট লুনসফোর্ড বলেন, ‘ভোরের আগের শেষ কয়েক ঘণ্টাই এ উল্কাবৃষ্টি দেখার একমাত্র সুযোগ।’ এর কারণ হলো, আকাশের ‘অ্যাকুয়ারিয়াস’ বা কুম্ভ রাশি—যেখান থেকে উল্কাগুলো ছড়িয়ে পড়ে বলে মনে হয়-তা রাত ৩টার আগে দিগন্তের ওপরে দৃশ্যমান হয় না। সাধারণত দক্ষিণ গোলার্ধের দেশগুলো থেকে এ উল্কাবৃষ্টি সবচেয়ে ভালো দেখা যায়। বিষুবরেখার নিচের দেশগুলো থেকে ঘণ্টায় প্রায় ৪০টি উল্কা দেখা যেতে পারে। তবে উত্তর গোলার্ধে এর দৃশ্যমানতা কিছুটা কম। আদর্শ পরিবেশে ঘণ্টায় ২০টি উল্কা দেখার সুযোগ থাকলেও এবার উজ্জ্বল চাঁদের আলোর কারণে সেই সংখ্যা ১০-এর নিচে নেমে আসে বলে জানিয়েছে আর্থস্কাই। মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা জানিয়েছে, ‘এটা অ্যাকুয়ারিড’ উল্কাগুলো অত্যন্ত দ্রুতগতিসম্পন্ন। এগুলো প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৪৪ মাইল (৬৪ কিলোমিটার) বেগে বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে। অতি দ্রুতগতির কারণে অনেক সময় উল্কা চলে যাওয়ার পরও আকাশে আগুনের মতো উজ্জ্বল রেখা কিছুক্ষণ স্থায়ী হতে পারে। উল্কাবৃষ্টি দেখার জন্য শহরের কৃত্রিম আলো থেকে দূরে কোনো অন্ধকার জায়গায় যাওয়াই ভালো। চাঁদের উজ্জ্বল আলো এড়াতে কোনো বড় গাছের আড়ালে বা ছায়ায় দাঁড়ানো যেতে পারে। খোলা আকাশের নিচে শুয়ে বা আরামকেদারা নিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে। চোখকে অন্ধকারের সঙ্গে সইয়ে নিতে অন্তত ৪৫ মিনিট সময় দিন, এরপরই আবছা উল্কাগুলো আপনার নজরে আসতে শুরু করবে। এ উল্কাবৃষ্টির মূল উৎস হলো বিখ্যাত হ্যালির ধূমকেতু (১পি/হ্যালি)। বছরে দুবার পৃথিবী যখন এ ধূমকেতুর রেখে যাওয়া ধূলিকণা ও পাথুরে অবশিষ্টাংশের কক্ষপথ অতিক্রম করে, তখনই উল্কাবৃষ্টি হয়। মে মাসে হয় ‘এটা অ্যাকুয়ারিড’ এবং অক্টোবর মাসে হয় ‘অরিওনিড’ উল্কাবৃষ্টি। বিজ্ঞানী এডমন্ড হ্যালি ১৭০৫ সালে ই ধূমকেতুটি আবিষ্কার করেন। সবশেষ ১৯৮৬ সালে এটি দেখা গিয়েছিল। ৭৬ বছরের কক্ষপথ হওয়ায় ২০৬১ সালের আগে এটি আর পৃথিবীর আকাশে ফিরছে না।

