প্রতিদিনের ডেস্ক:
ভারতের জালাউন জেলায় একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে। সেখানে ৬০ বছরের বেশি বয়সী নয়জন প্রবীণ নাগরিককে স্কুলে ভর্তি করানো হয়েছে।তাদের মধ্যে সাক্ষরতা বাড়ানোর জন্য এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।এক সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়, মহকুমা ম্যাজিস্ট্রেট ও আইএএস কর্মকর্তা রিঙ্কু সিং রাহির উদ্যোগে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রবীণদের প্রাথমিক ও জুনিয়র হাই স্কুলে পড়াশোনার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার ছানি গ্রামের স্কুলে ইউনিফর্ম পরে প্রবীণ এই শিক্ষার্থীরা স্কুলে পৌঁছালে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা তাদের ফুলের মালা ও করতালি দিয়ে স্বাগত জানায়।
সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জ্ঞান প্রকাশ অবস্থি জানান, এসডিএম রিঙ্কু সিং রাহির নির্দেশে মোট সাতজন পুরুষ ও দুইজন নারীকে স্কুলে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা হলেন, দেবী দীন (৬০), মিশ্রীলাল (৬৫), বংশ গোপাল (৭২), ভুলাই (৭০), কিরণ (৬০), টিকারাম (৬৯) এবং রাম মূর্তি (৬৬)। আর জুনিয়র হাই স্কুলে ভর্তি হয়েছেন কালকা (৭৮) এবং রাজদুলাইয়া (৭৮)।অবস্থি বলেন, ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষকরা স্বাগত জানানোর পর বয়স্ক শিক্ষার্থীরা শ্রেণীকক্ষে শিশুদের পাশে বসেন।এটি স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে কৌতূহল ও মনোযোগ আকর্ষণ করে।এই উদ্যোগটি এলাকায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে এবং অনেকেই বয়স্ক নিরক্ষর বাসিন্দাদের শিক্ষার সুযোগ করে দেওয়ার এই প্রচেষ্টার প্রশংসা করছেন।
গত বছর আইনজীবীদের সামনে সিট-আপ করার অভিযোগে শাহজাহানপুরের পদ থেকে অপসারিত হওয়ার পর রাহি সংবাদ শিরোনামে এসেছিলেন। পরে তাকে রাজস্ব পরিষদে বদলি করা হয়। পরবর্তীতে এই কর্মকর্তা আইএএস পদ থেকে পদত্যাগপত্র জমা দেন এবং বলেন, তিনি কাজ ছাড়া বেতন নিতে চান না, কিন্তু পরে তা প্রত্যাহার করে নেন এবং জালাউনের এসডিএম হিসেবে নিযুক্ত হন।
জালাউনে দায়িত্ব গ্রহণের পর রাহি পিটিআই-এর সাক্ষাৎকারের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে বলেন, তার অগ্রাধিকার হলো জনসেবা, জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলোর যথাযথ বাস্তবায়ন, তহসিলের কাজে স্বচ্ছতা আনা এবং নিরক্ষর বয়স্কদের জন্য শিক্ষা নিশ্চিত করা।

