৮ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ২২শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

রাজগঞ্জ উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে তীব্র ওষুধ সংকট চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত সাধারণ মানুষ

উত্তম চক্রবর্তী, রাজগঞ্জ
যশোরের মণিরামপুর উপজেলার রাজগঞ্জ উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে দীর্ঘদিন ধরে তীব্র ওষুধ সংকট দেখা দিয়েছে। এর ফলে চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে সাধারণ মানুষের প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা। প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে গরীব ও অসহায় মানুষ সরকারি এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ছুটে আসলেও, প্রেসক্রিপশন হাতে খালি মুখেই বাড়ি ফিরতে হচ্ছে তাদের। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রাজগঞ্জ উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে প্রতিদিন সকাল থেকেই রোগীরা সেবা নিতে আসতে থাকে। তবে চিকিৎসকের কক্ষ থেকে বের হওয়া অধিকাংশ রোগীর হাতেই থাকে প্রেসক্রিপশন। আর সামান্য কিছু কম দামের ওষুধ। চিকিৎসা নিতে আসা ঝাঁপা গ্রামের দিনমজুর করিম আলী (৫৫) ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কয়েকদিন ধরে জ্বরে ভুগছি। কামাই-রোজগার বন্ধ। বাজারে ওষুধের যে দাম, আমাদের মতো গরীব মানুষের কিনে খাওয়ার সাধ্য নেই। আশায় বুক বেঁধে সরকারি হাসপাতালে এসেছিলাম একটু ওষুধের জন্য। কিন্তু ডাক্তার বললেন, হাসপাতাল তেমন কোনো ওষুধ নেই। লিখে দিচ্ছি বাইরে থেকে কিনতে হবে। আমরা গরীব মানুষ এখন কোথায় যাব? একই চিত্র দেখা গেল হালিমা বেগমের (৪০) ক্ষেত্রেও। তিনি তার ৬ বছরের অসুস্থ সন্তানকে নিয়ে এসেছিলেন। তিনি বলেন, টাকা থাকলে তো প্রাইভেট ডাক্তার দেখাতাম। সরকারি হাসপাতালে আসি একটু ফ্রি ওষুধের আশায়। কিন্তু এখানে এসে শুধু ডাক্তার দেখানোই সার, ২/৪ টা প্যারাসিটামল ওষুধ ছাড়া কিছুই মেলেনা। বাজার থেকে ওষুধ কেনার টাকা আমার কাছে নেই। তাই ছুটে আসি হাসপাতালে। ওষুধ সংকটের বিষয়টি স্বীকার করে রাজগঞ্জ উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার (সেমকো) তৌহিদুর রহমান বলেন, প্রতিদিন এই উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে রাজগঞ্জ ও তার আশেপাশের দূর-দূরান্তের গ্রাম থেকে বহু অসহায় ও দরিদ্র মানুষ চিকিৎসা নিতে আসেন। আমরা সাধ্যমতো তাদের কিছু ওষুধ (আমাদের কাছে যা থাকে) তাই দিয়ে থাকি। আর কিছু ওষুধ লিখে দিয়ে থাকি। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় ওষুধের সরবরাহ না থাকায় আমরা রোগীদের হাতে ওষুধ তুলে দিতে পারছি না। বাজারে ওষুধের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় রোগীরা বাইরে থেকে ওষুধ কিনতে হিমশিম খাচ্ছেন। যা সত্যিই অত্যন্ত বেদনাদায়ক। আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে ওষুধের চাহিদার বিষয়টি লিখিতভাবে জানিয়েছি। এলাকার সচেতন মহলের দাবি, রাজগঞ্জ উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটির ওপর এই অঞ্চলের শত শত মানুষ নির্ভরশীল। দ্রুত সরকারিভাবে ওষুধের পর্যাপ্ত বরাদ্দ না দিলে এই অঞ্চলের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যঝুঁকি আরও চরম আকার ধারণ করবে। তারা অবিলম্বে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়