প্রতিদিনের ডেস্ক:
চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজে এক যুগ পর আবার ভোটের আমেজ ফিরেছে। তবে তা বর্জন করেছে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকা একটি প্যানেল।দীর্ঘদিন পর ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পেয়ে শনিবার (২৩ মে) সকাল থেকেই কেন্দ্রে ভিড় করেন ব্যবসায়ীরা। নগরের আগ্রাবাদে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের নিচতলায় সকাল ৯টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়। এর আগে সকাল ৮টা থেকেই ভোটারদের উপস্থিতি দেখা যায় কেন্দ্রে। ভোট নেওয়া চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।তবে ভোট শুরুর মাত্র ১৬ ঘণ্টা আগে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদ প্যানেল। তারা একে ‘প্রহসনের নির্বাচন’ বলে আখ্যা দিয়েছে।
শুক্রবার (২২ মে) বিকেলে নগরের রেডিসন ব্লু চট্টগ্রাম বে ভিউ হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্যানেল লিডার এস এম নুরুল হক এ ঘোষণা দেন। এসময় তিনি নির্বাচন প্রক্রিয়া, ভোটের সময় নির্ধারণ ও আদালতসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে অভিযোগ তুলে ধরেন।চেম্বার সূত্র জানায়, নির্ধারিত তফসিল অনুযায়ী আজ ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর মাধ্যমে দীর্ঘদিন পর ভোট দিয়ে নেতৃত্ব নির্বাচনের সুযোগ পাচ্ছেন চেম্বারের সদস্যরা।সংগঠনটির সর্বশেষ নির্বাচন হয়েছিল ২০১৩ সালে। এরপর আর ভোট হয়নি। পরবর্তী কমিটিগুলো গঠিত হয়েছে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায়।সংগঠনটির মোট ভোটার ছয় হাজার ৭৮০ জন। এর মধ্যে সাধারণ সদস্য চার হাজার একজন এবং সহযোগী সদস্য দুই হাজার ৭৬৪ জন। সাধারণ শ্রেণির ভোটাররা ১২টি এবং সহযোগী শ্রেণির ভোটাররা ছয়টি করে ভোট দিতে পারবেন।নির্বাচনের মাধ্যমে সাধারণ শ্রেণি থেকে ১২ জন, সহযোগী শ্রেণি থেকে ছয়জন এবং ট্রেড গ্রুপ ও টাউন অ্যাসোসিয়েশন থেকে ছয়জন পরিচালক নির্বাচিত হবেন। পরে নির্বাচিত পরিচালকদের ভোটে সভাপতি ও দুই সহ-সভাপতি নির্বাচিত করা হবে।চূড়ান্ত তালিকা অনুযায়ী, সাধারণ শ্রেণিতে এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৩৭ জন। সহযোগী শ্রেণিতে আছেন ১৫ প্রার্থী। ট্রেড গ্রুপ ও টাউন অ্যাসোসিয়েশন থেকে ছয়জন বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার পথে রয়েছেন।এবারের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দুটি প্যানেল গঠিত হয়। একটি সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদ, অন্যটি ইউনাইটেড বিজনেস ফোরাম। সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদ এরই মধ্যে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। যদিও ব্যালটে তাদের প্রার্থীদের নাম রয়েছে।বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, ১৭টি বুথে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ চলছে। ভোটাররা লাইনে দাঁড়িয়ে ব্যালট সংগ্রহ করছেন এবং পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিচ্ছেন। কেন্দ্রের বাইরেও ব্যবসায়ীদের জটলা দেখা যায়।ইউনাইটেড বিজনেস ফোরামের নেতা আমিরুল হক বলেন, দীর্ঘদিন পর ব্যবসায়ীরা ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। ভোটারদের উপস্থিতিই প্রমাণ করে তারা অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন চান।নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা প্রিসাইডিং কর্মকর্তা সুব্রত বিশ্বাস দাস বলেন, ভোটগ্রহণ সুষ্ঠুভাবে চলছে। ভোটার উপস্থিতিও সন্তোষজনক।

