প্রতিদিনের ডেস্ক
৯৬ বছর ধরে চলছে ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ। তবে ইতিহাসে প্রথমবার আসরের উদ্বোধনী ম্যাচে তিন ফুটবলার লাল কার্ড দেখলেন। মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচ তাই লাল কার্ডের হিসাবেও ইতিহাসে নাম লেখাল। অথচ সর্বশেষ ২০১৮ রাশিয়া এবং ২০২২ কাতার বিশ্বকাপজুড়ে ছিল কেবল ৪টি করে লাল কার্ডের নজির। এবার সূচনাই হলো ৩ লাল কার্ডে। বৃহস্পতিবার রাতে মেক্সিকোর আজতেকা স্টেডিয়ামে পর্দা উঠেছে ২০২৬ ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপের। পরে রাত ১টায় শুরু হওয়া উদ্বোধনী ম্যাচে স্বাগতিক মেক্সিকো ২-০ ব্যবধানে হারিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকাকে। যেখানে ব্রাজিলিয়ান রেফারি উইল্টন সাম্পাইও দুই দলের তিন খেলোয়াড়কেই সরাসরি লাল কার্ড দেখিয়েছেন, যা বিশ্বকাপে দুর্লভ ঘটনা। হলুদ কার্ডের সতর্কতা ছাড়া সর্বশেষ এমন নজির দেখা যায় ৭২ বছর আগে। দক্ষিণ আফ্রিকার দুই মিডফিল্ডার স্ফেফেলো সিথোলে ও থেম্বা জেওয়ানে ৫০ ও ৮৪ মিনিটে লাল কার্ড দেখেন। ৯২ মিনিটে একই তিক্ততার মুখে পড়েন মেক্সিকোর সেজার মন্তেস। ২০০৬ সালের পর এবারই প্রথম কোনো বিশ্বকাপ ম্যাচে তিন লাল কার্ডের নজির দেখা গেল। যদিও বিশ্বকাপে এক ম্যাচে ন্যূনতম তিন বা এর বেশি লাল কার্ড দেখা গেছে ৭ বার। তবে সেসব ম্যাচের কোনোটিই বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ছিল না। ফিফা বিশ্বকাপের তৃতীয় আসরে (১৯৩৮) সর্বপ্রথম তিনটি লাল কার্ড দেখা গিয়েছিল। যে কারণে ব্রাজিল ও সাবেক চেকোশ্লোভাকিয়ার উত্তপ্ত ম্যাচটি ‘ব্যাটল অব বোর্দো’ নামে পরিচিত। এরপর ১৯৫৪ আসরে ব্রাজিল-হাঙ্গেরির ‘ব্যাটল অব বার্ন’ ম্যাচেও ৩টি লাল কার্ড দেখা যায়। মাঝে লম্বা সময় এক ম্যাচে এত লাল কার্ড দেখা যায়নি। ৪২ বছর পর ১৯৯৮ বিশ্বকাপের গ্রুপপর্বে দক্ষিণ আফ্রিকা-ডেনমার্ক ম্যাচে আবারও ফেরে তিন লাল কার্ডের দিন। নির্দিষ্ট ম্যাচ ও পুরো আসরে সর্বোচ্চ লাল কার্ডের রেকর্ড গড়ে ২০০৬ বিশ্বকাপ। শেষ ষোলোয় নেদারল্যান্ডস-পর্তুগাল ম্যাচে দুই দলের দুজন করে ৪ ফুটবলার লাল কার্ড দেখেন। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এক ম্যাচে এটাই সর্বোচ্চ লাল কার্ড এবং ম্যাচটি ‘ব্যাটল অব নুরেমবার্গ’ নামে খ্যাতি পায়! জার্মানিতে অনুষ্ঠিত সেই বিশ্বকাপে সবমিলিয়ে লাল কার্ডের সংখ্যা ছিল ২৮টি, এক আসরে যা ছিল ইতিহাসগড়া কীর্তি। ওই আসরের গ্রুপপর্বে ইতালি-যুক্তরাষ্ট্র ও ক্রোয়েশিয়া-অস্ট্রেলিয়া ম্যাচে সমান ৩টি করে লাল কার্ড দেখা গেছে।

