৮ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ২১শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

লোহাগড়ায় আইন শৃঙ্খলার অবনতি ৭ দিনে ৩ হত্যাকান্ড : ওসি বদলী

রেজাউল করিম , লোহাগড়া
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার আইন শৃঙ্খলা বর্তমানে চরম অবনতি ঘটেছে। গত ৭দিনে ৩টি হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া অলি গলিতে মাদক ব্যবসা, স্কুল-কলেজে পড়ুয়া মেয়েদের উত্যক্ত, মাদক সেবন ও চুরির সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এসব ঘটনায় উপজেলায় বসবাসকারী সাধারন মানুষের মধ্যে ভয় আর আতংক বিরাজ করছে। অবিভাবকরা উঠতি বয়সী ও স্কুল-কলেজগামী ছেলে মেয়েদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে ভয় পাচ্ছে। এসব কারনে জেলার আইন শৃংখলা বাহিনী নড়ে চড়ে বসেছে। গত ১৪ মে নড়াইলের পুলিশ সুপার কাজী এহসানুল কবীরের স্বাক্ষরিত এক আদেশে ২৪ ঘন্টার মধ্যে লোহাগড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশিকুর রহমানকে নড়াগাতি থানায় এবং নড়াগাতি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শরিফুল ইসলামকে লোহাগড়া থানায় বদলী করা হয়েছে। উল্লেখ্য, গত ১৪ মে (বুধবার) উপজেলার ইতনা ইউনিয়নের পার-ইছাখালি গ্রামের নওয়াব মোল্যা ওরফে লবার ছেলে কৃষক খাজা মোল্যা (৪৫) কে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে প্রতিপক্ষ কুমারডাঙ্গা গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য পলাশ শেখের নেতৃত্বে ১২/১৫ জন দেশীয় ধারালো অস্ত্র রামদা, কাতরা, ছ্যানদা দিয়ে খাজাকে ঘিরে ফেলে এলোপাতাড়ি ভাবে কুপিয়ে ও পিটিয়ে মারাত্মক জখম করে। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে লোহাগড়া হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোন মামলা হয়নি এবং পুলিশ কাউকে আটক করতে পারেনি। এছাড়া উপজেলার মল্লিকপুর ইউনিয়নের করফা গ্রামের টোকন মীরের বাড়ীর জায়গা দিয়ে ভ্যান চলাচলকে কেন্দ্র করে চাচাতো ভাই ফেরদৌস মীরের মধ্যে বাক-বিতন্ডা হয়। এর জের ধরে ফেরদৌস মীরের নেতৃত্বে ১০/১৫ জন দেশীয় অস্ত্র রামদা, ছ্যানদা,লাঠিশোটা নিয়ে হামলা চালিয়ে টোকন মীর, তার স্ত্রী, ছেলেকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে লোহাগড়াসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করে। বৃহস্পতিবার (৮মে) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় টোকন মীর মারা যায়। এ ঘটনায় থানায় মামলা হলেও কোন আটক নেই। অপর দিকে উপজেলার নোয়াগ্রাম ইউনিয়নের শামুকখোলা গ্রামের খাজা খন্দকারের ছেলে যুবদল কর্মী সালমান খন্দকারকে দূবৃর্ত্তরা বাড়ী থেকে মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় কুপিয়ে হত্যা করে ক্ষত বিক্ষত লাশ পার্শ্ববর্তী কাউলিডাঙ্গা বিলে ফেলে রেখে যায় । গত শুক্রবার (৯ মে) সকালে এলাকাবাসী তার লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দিলে লোহাগড়া থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় নিহতের ভাই বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছে। পুলিশ এজাহারভুক্ত এক আসামীকে আটক করেছে। এ ব্যাপারে নড়াইলের পুলিশ সুপার কাজী এহসানুল কবীর বলেন, এলাকার আইন-শৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখার জন্য কাজ করছি। হত্যা মামলার আসামীদের গ্রেফতারের জোর চেষ্টা চালানো হচ্ছে।রুটির কায়ক্রম হিসেবে দুইজন ওসিকে রদবদল করা হয়েছে। মাদক এবং চুির রোধে পুলিশ নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়