২০শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ৩রা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

বৈঠকের ফলাফল আশাব্যঞ্জক নয়

রাজনীতিতে ক্রমেই উত্তাপ বাড়ছে। জুলাই অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া দলগুলোর মধ্যেও দূরত্ব বাড়ছে। অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর আস্থাও আগের মতো নেই। এরই মধ্যে দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বিএনপি তিন উপদেষ্টার পদত্যাগ দাবি করেছে।তাদের মতে, এই তিন উপদেষ্টার কর্মকাণ্ড অন্তর্বর্তী সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশের স্বার্থে একটি রাজনৈতিক ঐক্য জরুরি হয়ে পড়েছে। সেই লক্ষ্যে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস গত শনিবার বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির সঙ্গে বৈঠক করেন। গতকাল রবিবারও তিনি কয়েকটি দলের সঙ্গে বৈঠক করেন।কিন্তু গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে যা জানা যায়, তা খুব একটা আশাব্যঞ্জক নয়।এটি স্পষ্ট যে তিনটি দলের মধ্যে এখনো যথেষ্ট দূরত্ব রয়ে গেছে। বিএনপি ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ চায়। জামায়াত কোনো সময় নির্দিষ্ট না করে নির্বাচন ও সংস্কার উভয় ক্ষেত্রে রোডম্যাপ চায়।
আর এনসিপি জুলাই গণহত্যার বিচার, জুলাই সনদ এবং গণপরিষদ ও আইন সভা নির্বাচনের সমন্বিত রোডম্যাপ একত্রে ঘোষণা করার কথা বলেছে। তারা জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে স্থানীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের ওপর জোর দিয়েছে। ফলে রাজনৈতিক ঐক্যের আশা অনেকটাই ক্ষীণ হয়ে গেছে।প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকের পর বিভিন্ন সূত্রে বিএনপির যে প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে, তাতে এটি স্পষ্ট যে তারা তাতে সন্তুষ্ট হতে পারেনি। বৈঠকে ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ না দিয়ে আবারও বলা হয়েছে, ডিসেম্বর থেকে পরবর্তী বছরের জুনের মধ্যে নির্বাচন হবে।
দলটির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য বলেছেন, এই বৈঠকের কোনো ফলাফল নেই। বড় রাজনৈতিক ঘটনার পর প্রধান উপদেষ্টার কাছে সুনির্দিষ্ট বক্তব্য আশা করেছিলেন তাঁরা। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ বিশ্বাস করে, অন্তর্বর্তী সরকারের মূল দায়িত্ব হচ্ছে একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রে উত্তরণের প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা। যেকোনো অসিলায় নির্বাচন যত বিলম্ব করা হবে, আমরা মনে করি দেশে আবার স্বৈরাচার ফিরে আসার ক্ষেত্র প্রস্তুত হবে। স্বৈরাচার ফিরে এলে এর দায়দায়িত্ব বর্তমান সরকার ও তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ওপর বর্তাবে।’
শুধু বিএনপি নয়, অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া আরো অনেক রাজনৈতিক দলই ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন চাইছে। আন্তর্জাতিকভাবেও গণতান্ত্রিক উত্তরণকে ত্বরান্বিত করার জন্য চাপ আছে। দেশের অনেক বিশিষ্ট নাগরিকও একই দাবি করেছেন। সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানও বলেছেন, জাতীয় নির্বাচন আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই হওয়া উচিত। তিনি বলেছেন, নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নিলে তিনি সেনবাহিনীকে দ্রুত ব্যারাকে ফিরিয়ে নিতে চান। নির্বাচন কমিশনও বলেছে, তারা ডিসেম্বরে জাতীয় সংসদ নির্বাচন করার জন্য তৈরি আছে। তার পরও নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা না করায় সাধারণ মানুষের মধ্যেও প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে।
আমরা মনে করি, শান্তি ও স্থিতিশীলতার স্বার্থে রাজনৈতিক ঐক্য অত্যন্ত জরুরি। আর সে লক্ষ্যে যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করাই শ্রেয়।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়