প্রতিদিনের ডেস্ক
লেডিজ-স্লিপার নামের বুনো অর্কিডটি বিলুপ্ত বলে বিবেচনা করা হয়েছিল। কিন্তু শতবর্ষেরও বেশি সময় পর আবারও তা দেখা গেছে। দশকব্যাপী সংরক্ষণ প্রচেষ্টায় যুক্তরাজ্যে আবারও বুনো পরিবেশে এটি দেখা গেছে বলে মঙ্গলবার জানিয়েছে বিশেষজ্ঞরা। লন্ডন থেকে এএফপি জানায়, উনিশ শতকে অর্কিড নিয়ে তীব্র আগ্রহের সময় গাছটি অতিরিক্তভাবে সংগ্রহের কারণে ১৯০০ সালের শুরুতেই বিলুপ্ত হয়ে যায়। এই হলুদ কাপ-আকৃতির ও বেগুনি পাপড়িযুক্ত অর্কিডটিকে ১৯৩০ সালে উত্তর ইংল্যান্ডের ইয়র্কশায়ার ডেলসের একটি দুর্গম স্থানে পাওয়া যায়। অর্কিডটি আবারও উত্তর ইংল্যান্ডজুড়ে পূর্বের বিস্তৃত এলাকায় ছড়িয়ে দেওয়ার আশা জোরদার করেছে। এরপর গাছটির অবস্থান গোপন রাখা হয় এবং স্বেচ্ছাসেবকরা এটি চুরি হওয়া ঠেকাতে সার্বক্ষণিক পাহারা দিতে থাকেন। গত গ্রীষ্মে ইয়র্কশায়ার ওয়াইল্ডলাইফ ট্রাস্ট বিভিন্ন সংরক্ষণ সংগঠনের সহায়তায় প্রথমবারের মতো একটি নতুন লেডিজ-স্লিপার অর্কিডের দেখা পায়। এটি প্রমাণ করে যে, রোপণ করা গাছগুলো থেকে উৎপন্ন বীজ অঙ্কুরিত হয়ে নতুন গাছে রূপ নিয়েছে। এটি বহু দশক ধরে ফুলটিকে ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টার একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য। অর্কিডটি আবারও উত্তর ইংল্যান্ডজুড়ে পূর্বের বিস্তৃত এলাকায় ছড়িয়ে দেওয়ার আশা জোরদার করেছে। প্রকল্পটির ব্যবস্থাপক ইয়র্কশায়ার ওয়াইল্ডলাইফ ট্রাস্টের জনো লিডলি বলেন, ‘এটি একদম রোমাঞ্চকর একটি মুহূর্ত। নিজের আদি এলাকায় একটি সুস্থ ‘লেডিজ-স্লিপার’ অর্কিড আবার দেখা সত্যিই ভবিষ্যতের জন্য আশা জাগায়।’ এই অর্কিডগুলো লন্ডনের রয়্যাল বোটানিকাল গার্ডেনস, কিউ-তে সংরক্ষণের জন্য প্রজনন করা হয়। ১৯৯০-এর দশকে সাহায্যের আহ্বান জানানো হলে কিছু ব্যক্তিমালিকানাধীন বুনো উৎসের অর্কিড সংরক্ষণমূলক প্রজনন প্রকল্পে প্রদান করা হয়। কিউ-এর জ্যেষ্ঠ গবেষণা নেতা মাইক ফে বলেন, ‘ইংল্যান্ডে লেডিজ-স্লিপার অর্কিড রক্ষার প্রচেষ্টা আরবিজি কিউ’র অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংরক্ষণ প্রকল্পগুলোর একটি।’

