১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ২৫শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে দুশ্চিন্তা বেশি

শুরুতেই বড় ধাক্কা খেল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের অভিযাত্রা। তিনটি আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পরদিন গতকাল মঙ্গলবার ভোরে ইন্তেকাল করেছেন তিনবারের প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। আমরা তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) এই আসনগুলোর বিষয়ে নতুন করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।এ ছাড়া দুই-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া সারা দেশে উৎসবমুখর পরিবেশে মনোনয়নপত্র জমা নেওয়া হয়েছে। সোমবার ছিল মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন।
নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের তথ্য অনুসারে সোমবার শেষ সময় পর্যন্ত দেশের ৬৪টি জেলার ৩০০ আসনে মোট দুই হাজার ৫৮২ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র জমা হয়। মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছিল মোট তিন হাজার ৪০৭টি।
কিন্তু শেষ মুহূর্তে হেভিওয়েট প্রার্থীসহ অনেকেই মনোনয়নপত্র জমা দেননি। রিটার্নিং অফিসাররা এসব মনোনয়নপত্র বাছাই করবেন আগামী ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত। এরপর ৫ থেকে ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত রিটার্নিং অফিসারের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে। ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিলকারী প্রার্থীর সংখ্যা ছিল দুই হাজার ৭৪১।
নির্বাচন দোরগোরায় চলে এসেছে। এখনো আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির কাঙ্ক্ষিত উন্নতি হয়নি। মব সন্ত্রাস, টার্গেটেড কিলিং, গণমাধ্যম, সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান, মাজার, বাউলশিল্পীদের ওপর বর্বরোচিত হামলা হচ্ছে। রাজনৈতিক সংঘাত ক্রমেই বাড়ছে। ঘটছে হতাহতের ঘটনা। প্রকাশিত খবরে জানা যায়, গত ২৪ ডিসেম্বর সদর উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়ন ছাত্রদল নেতা সিফাতকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। তার প্রতিবাদে সোমবার জেলা বিএনপি একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করলে তাতে ককটেল নিক্ষেপ করা হয়। অন্যদিকে বিজেপির স্থানীয় কার্যালয়ে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। প্রায় প্রতিনিয়ত এমন ঘটনা ঘটছে। এর আগে দুজন সম্ভাব্য প্রার্থীর ওপরও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিতে প্রার্থী, সমর্থক, নেতাকর্মী এবং নির্বাচনসংশ্লিষ্ট অনেকের মধ্যে ভয়ভীতি কাজ করছে। কয়েকজন প্রার্থী এ কারণে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। অনেকে প্রশাসনের কাছে নিরাপত্তা চেয়েছেন। কেউ কেউ গানম্যান ও আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স চেয়েছেন। এসব কারণে নির্বাচনের সময় যে একটা উৎসবমুখর পরিবেশ থাকে, তা-ও কম দেখা যাচ্ছে।
অপরাধ ও আইন-শৃঙ্খলা বিশেষজ্ঞদের মতে, জাতীয় নির্বাচনের আগে আগে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সাধারণত কিছুটা খারাপ হয়। এবার পরিস্থিতি একটু বেশি খারাপ। এ জন্য গত বছরের ৫ আগস্টের আশপাশে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর লুট হওয়া আগ্নেয়াস্ত্রের একটি বড় অংশ এখনো উদ্ধার না হওয়া, সীমান্ত দিয়ে অনেক আগ্নেয়াস্ত্র চোরাচালান হয়ে আসাসহ নানা কারণকে দায়ী করা হচ্ছে। অন্যদিকে কারাগারে থাকা অনেক শীর্ষ সন্ত্রাসী জামিনে বেরিয়ে এসে নতুন করে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ শুরু করায় পরিস্থিতির আরো বেশি অবনতি হচ্ছে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীও স্বীকার করেছেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অস্ত্র প্রবেশ করছে এবং উদ্ধারও করা হচ্ছে।
আমরা মনে করি, আগামী নির্বাচনে যেকোনো মূল্যে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে হবে। আগামী নির্বাচন হতে হবে অবাধ, নিরপেক্ষ, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়