১২ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ২৬শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

রাশিয়ার তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের ড্রোন হামলা

প্রতিদিনের ডেস্ক:
রাশিয়ার একটি তেল শোধনারগার লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেনের সেনাবাহিনী। এতে শোধনাগারটির বেশ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং সেটি দেখভালের দায়িত্ব থাকা দুই জন আহত হয়েছেন। রাশিয়ার ক্রাসনোডার অঞ্চলের অপারেশনাল সদর দপ্তর বুধবার এই খবর জানিয়েছে। আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে বলে জানা গেছে।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে পোস্ট করা এক বিবৃতিতে রুশ সেনাবাহিনীর ক্রাসনোদার শাখার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ড্রোন হামলার পর সেই শোধনাগার এবং তার আশপাশের ৩ হাজার ২২৯ বর্গফুট এলাকাজুড়ে আগুন ধরে যায়। আগুন দ্রুত নেভানো সম্ভব হলেও ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো যায়নি।
যে শোধানাগারটিকে লক্ষ্যবস্তু করেছে ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনী, সেটির নাম তুয়াপস অয়েল রিফাইনারি। এটি রাশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ ক্রাসনোদারে কৃষ্ণ সাগরের তীরে অবস্থিত।ইউক্রেনের মূল ভূখণ্ড থেকে শোধনাগারটির দূরত্ব ৩৫০ কিলোমিটার।হামলায় রিফাইনারির সরঞ্জাম, একটি বন্দর ঘাট এবং পাঁচটি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চারটি অ্যাপার্টমেন্ট ব্লক এবং একটি ব্যক্তিগত বাড়ির জানালা ভেঙে গেছে। ক্রাসনোডার অপারেশনাল সদর দপ্তর টেলিগ্রাম অ্যাপের মাধ্যমে এই তথ্য জানিয়েছে।তবে কতটা সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বা রিফাইনারির কার্যক্রম বন্ধ হয়েছে কি না, সে সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেয়নি কর্তৃপক্ষ।তুয়াপসে রাশিয়ার প্রধান কৃষ্ণ সমুদ্র তীরবর্তী তেল রপ্তানি কেন্দ্রগুলোর একটি। এখানে রোসনেফটের রপ্তানিমুখী তুয়াপসে রিফাইনারি রয়েছে, যার দৈনিক প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার ব্যারেল কাঁচা তেল প্রক্রিয়াকরণের ক্ষমতা রয়েছে। রিফাইনারি ন্যাফথা, ফুয়েল অয়েল ও ডিজেলসহ বিভিন্ন তেলজাত পণ্য সরবরাহ করে।
রাশিয়া প্রায় চার বছর আগে যে যুদ্ধ শুরু করেছিল, সেই যুদ্ধে তুয়াপসের বন্দর ও রিফাইনারি ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে বারবার।অতীতের হামলায় আগুন লেগে গিয়েছিল এবং কখনো কখনো রিফাইনারির কার্যক্রমও ব্যাহত হয়েছিল।হামলার বিষয়ে ইউক্রেনের পক্ষ থেকে কোনো তাৎক্ষণিক অফিসিয়াল মন্তব্য আসেনি। রয়টার্স এই প্রতিবেদন বা ক্ষতির পরিমাণ স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করতে পারেনি।এদিকে রুশ ড্রোন হামলায় ইউক্রেনের ওডেসা শহরে তিন শিশুসহ চারজন আহত হয়েছে। ওডেসার সামরিক প্রশাসন আজ বুধবার এ তথ্য জানিয়েছে।
এদিকে ইউক্রেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বাসভবনে ড্রোন হামলা চালিয়েছে এমন অভিযোগ তুলেছে মস্কো। কিয়েভ এ অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং জানিয়েছে যুদ্ধ অবসানের শান্তি আলোচনাকে বাধাগ্রস্ত করতেই এমন দাবি তোলা হচ্ছে। মিথ্যা তথ্য প্রচারের অভিযোগ আনার পর এই হামলা চালানো চালায় রাশিয়া। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি রাশিয়ার দাবিকে ‘সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন’ বলে অভিহিত করেছেন।ওডেসার সামরিক প্রশাসনের আঞ্চলিক প্রধান টেলিগ্রামে বলেছেন, ‘রাশিয়ার ড্রোনগুলো আমাদের অঞ্চলের আবাসিক এলাকা ও জ্বালানি অবকাঠামোতে আক্রমণ করেছে।’ শহরের সামরিক প্রশাসনের প্রধান সের্গেই লিসাক পৃথক এক টেলিগ্রাম পোস্টে জানিয়েছেন, রাশিয়ার হামলায় ১৪ বছর বয়সী এক কিশোর এবং আট বছর ও সাত মাস বয়সী দুই শিশুসহ চার জন আহত হয়েছে। তিনি আরো জানান, ৪২ বছর বয়সী এক ব্যক্তি রাশিয়ার এই হামলায় গুরুতর আহত হয়েছে।
ক্রেমলিন গতকাল মঙ্গলবার জানিয়েছে, তারা নভগোরোদ অঞ্চলে পুতিনের বাসভবনে কথিত ড্রোন হামলাকে একটি ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ ও ‘পুতিনের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত আক্রমণ’ বলে মনে করছে। তবে তারা জানিয়েছে যে, তাদের দাবির পক্ষে প্রমাণ দিতে পারবে না, কারণ সব ড্রোনগুলো গুলি করে ভূপাতিত করা হয়েছে। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত রবিবার বলেছেন, ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণ বন্ধ করার জন্য একটি চুক্তি আগের চেয়েও কাছাকাছি রয়েছে, তবে যুদ্ধরত দেশগুলোর নেতাদের সঙ্গে নতুন করে আলোচনার পর ভূখণ্ডের আলোড়ন সংক্রান্ত ইস্যুতে স্পষ্ট কোনও অগ্রগতি হয়নি। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, তিনি ৬ জানুয়ারি ফ্রান্সে কিয়েভের মিত্রদের নেতাদের সঙ্গে শান্তি প্রচেষ্টাগুলো পুনরায় জোরদার করার জন্য বৈঠক করবেন।
সূত্র : আলঅ্যারাবিয়া।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়