১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ২৫শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

নির্বাচনে অনিয়ম-জালিয়াতির আশঙ্কা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে এরই মধ্যে আচরণবিধি লঙ্ঘনসহ নানা অনিয়মের বহু অভিযোগ পাওয়া গেছে। নির্বাচনে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য পোস্টাল ব্যালট বিতরণ করা হয়েছে। আর এই ব্যালটের মাধ্যমে প্রদত্ত ভোট নিয়ে বড় ধরনের জালিয়াতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। ভোট কেনাবেচার আশঙ্কাও করা হচ্ছে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় এ ধরনের অনেক অনিয়মের ভিডিও প্রচারিত হচ্ছে। সম্প্রতি বাহরাইনে একটি বাসায় পোস্টাল ব্যালটের অনেক খামগণনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ওমান থেকেও একই ভিডিও ছড়াচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এখন পোস্টাল ব্যালটের ছবির ছড়াছড়ি।
দেশের প্রধানতম রাজনৈতিক দল বিএনপি এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা গেছে, একটি বাসায় ২০০ থেকে ৩০০ ব্যালট পাওয়া যাচ্ছে, কোথাও কোথাও ব্যালট জব্দ করা হচ্ছে। কোথাও আবার ভোট প্রদান শুরু হয়ে গেছে, যা ২২ তারিখে হওয়ার কথা। কোথাও একজনের নম্বর দিয়ে আরেকজন ব্যালট গ্রহণ করছে।
এভাবে নানা অনিয়মের ঘটনা ঘটছে।’ গত বৃহস্পতিবার নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। এ ছাড়া পোস্টাল ব্যালটে নিজেদের ধানের শীষ প্রতীকের অবমূল্যায়ন হয়েছে দাবি করে নতুন করে ব্যালট ছাপানোর কথা বলছে বিএনপি।
নির্বাচনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এই পোস্টাল ভোটই এবার শতাধিক আসনে নির্বাচনের ফল নির্ধারণে অন্যতম ভূমিকা পালন করতে পারে। নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সদস্য ড. মো. আব্দুল আলীম এ বিষয়ে বলেন, পোস্টাল ভোট পুুরোপুরি শুরু করার আগে কয়েকটি দেশে প্রবাসী ভোটারদের জন্য পাইলট প্রকল্প নেওয়া প্রয়োজন ছিল। কিন্তু নির্বাচন কমিশন (ইসি) অতি প্রত্যাশা ও আস্থা নিয়ে একই সঙ্গে সব দেশের ক্ষেত্রে এটি করার ঝুঁকি নিয়ে ফেলেছে। অনেক দেশ পোস্টাল ভোটের আইন করেও তা বাস্তবায়ন করতে পারেনি। আবার অনেক দেশ এই পদ্ধতি চালু করেও বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে। তাই এ ধরনের পদ্ধতি কার্যকর করার জন্য প্রতিটি ধাপে সতর্ক পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।
শুধু পোস্টাল ব্যালট নিয়ে অনিয়মের অভিযোগই নয়, নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গ করা নিয়েও পরস্পরবিরোধী অভিযোগ তুলেছে বিএনপি ও জামায়াত। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ কোনো দলের নাম উল্লেখ না করে সাংবাদিকদের বলেন, ‘এখন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতারা আচরণবিধি ভঙ্গ করে বিভিন্নভাবে যেসব বক্তব্য-বিবৃতি দিচ্ছেন সে ব্যাপারে নির্বাচন কমিশন নির্বিকার।’ ইসির সঙ্গে বৈঠকের পর একই ধরনের অভিযোগ করেন, জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ এইচ এম হামিদুর রহমান। তিনি জানান, নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে অভিযোগের স্তূপ পড়ে আছে, কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। দলীয় প্রধানদের প্রটোকল, নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও সমতা রক্ষা করা হচ্ছে না।
বিএনপি ও জামায়াতের অভিযোগের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, ‘অভিযোগের জন্য একটি কমপ্লেইন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম আছে। আমরা প্রতিদিন এমন বহু অভিযোগ ব্যবস্থাপনা করছি। অনেককে শোকজ, জরিমানাও করা হয়েছে।’
গণ-অভ্যুত্থানের পর অনুষ্ঠিত এই নির্বাচন নিয়ে মানুষের প্রত্যাশা অনেক বেশি। আমরা আশা করি, সেই প্রত্যাশার কথা বিবেচনায় রেখে ইসি সুষ্ঠু, অবাধ ও উৎসবমুখর নির্বাচন আয়োজনে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা গ্রহণ করবে।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়