প্রতিদিনের ডেস্ক
ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) আসন্ন আসরের নিলামে মোস্তাফিজুর রহমানকে ৯ কোটি ২০ লাখে কিনে নেয় কলকাতা নাইট রাইডার্ষ। কিন্তু ভারতের হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলোর হুমকির কারণে মোস্তাফিজকে আইপিএল থেকে বাদ দিয়ে দেয় ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড (বিসিসিআই)। ভারত যদি মোস্তাফিজের মতো একজন ক্রিকেটারকে নিরাপত্তা দিতে না পারে তাহলে বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দল, সাংবাদিক এবং সমর্থকদের কিভাবে নিরাপত্তা দিবে। এ কারণে ভারত সফরে গিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলায় অনীহা প্রকাশ করে বাংলাদেশ করে ভেন্যু পরিবর্তনের আবেদন করে। মোস্তাফিজের ঘটনার সঙ্গে বিশ্বকাপের নিরাপত্তা শঙ্কার যোগসূত্র পায়নি আইসিসি। অংশগ্রহণকারী ২০ দলের কেউই ভারতে নিরাপত্তা ঝুঁকিতে নেই বলে বিবৃতি দিয়েছে। বুধবার ভিডিও কনফারেন্সে বাংলাদেশসহ ১৬টি পূর্ণ সদস্য দেশের পরিচালকদের সঙ্গে সভা করে আইসিসি। সেখানে বাংলাদেশকে আরও ২৪ ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়েছে তাদের ভারতে খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে। বাংলাদেশের ভেন্যু পরিবর্তনের দাবির পক্ষে কেবল পাকিস্তান ভোট দিয়েছে। অন্য সবাই ছিল তাদের অবস্থানের বিরুদ্ধে। এমন অবস্থায় আইসিসি সিদ্ধান্ত নিয়েছে- হয় বাংলাদেশকে ভারতেই খেলতে হবে নয়তো স্কটল্যান্ড পরবর্তী সর্বোচ্চ র্যাংকিংধারী হিসেবে বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পাবে। আইসিসি এক বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে, ভারতে বাংলাদেশ দলের নিরাপত্তা নিয়ে কোনো বিশ্বাসযোগ্য হুমকি নেই। তারা বলেছে, ‘গত কয়েক সপ্তাহ ধরে আইসিসি বিসিবির সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন ও গঠনমূলক আলোচনা চালিয়েছে, যার একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। এই সময়ে আইসিসি স্বতন্ত্র নিরাপত্তা মূল্যায়ন, ভেন্যুভিত্তিক ব্যাপক নিরাপত্তা পরিকল্পনা ও আয়োজক কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক নিশ্চয়তা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রদান করেছে- যার সবকটি থেকে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া গেছে যে, ভারতে বাংলাদেশ দলের নিরাপত্তা বা সুরক্ষার বিষয়ে কোনো বিশ্বাসযোগ্য বা যাচাইযোগ্য হুমকি নেই।’ মোস্তাফিজের আইপিএল থেকে বাদ পড়ার ঘটনা প্রসঙ্গে তারা বলেছে, ‘এই প্রচেষ্টা সত্ত্বেও, বিসিবি তার অবস্থানে অনড় ছিল এবং বারবার টুর্নামেন্টে তাদের অংশগ্রহণকে একটি একক, বিচ্ছিন্ন ও সম্পর্কহীন ঘটনার সঙ্গে যুক্ত করে, যা তাদের একজন খেলোয়াড়ের একটি ঘরোয়া লিগে অংশগ্রহণ সংক্রান্ত। এই সংশ্লিষ্টতার সাথে টুর্নামেন্টের নিরাপত্তা কাঠামো বা আইসিসি পুরুষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের শর্তাবলির কোনো সম্পর্ক নেই।’

