৫ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ১৮ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

আশাশুনিতে ভোটকেন্দ্র সংস্কারের নামে অর্থ অপচয়ের অভিযোগ

আশাশুনি সংবাদদাতা
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সাতক্ষীরার আশাশুনিতে কেন্দ্র মেরামতের নামে অপ্রয়োজনীয় বরাদ্দ দিয়ে অর্থ অপচয়ের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার স্বপন কুমার বর্মনের বিরুদ্ধে। জানা গেছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে রাজস্ব খাতের আওতায় ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোটকেন্দ্র মেরামত ও সংস্কার কাজের জন্য উপজেলার বাঁকড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ৫০ হাজার, কামালকাটি বিদ্যালয় ৭০ হাজার, বলাইপুর বিদ্যালয় ৫০ হাজার, বৈকরঝুটি বিদ্যালয় এক লাখ, দক্ষিণ চাপড়া বিদ্যালয় ৫০ হাজার, শ্রীধরপুর বিদ্যালয় ৭০ হাজার, রামনগর বিদ্যালয় এক লাখ, বড়দল দক্ষিণ বিদ্যালয় ২৫ হাজার, বড় দুর্গাপুর বিদ্যালয় ৭০ হাজার, নাংলা স্কুল এক লাখ ও প্রতাপনগর বিদ্যালয়ে এক লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। সংস্কার ও মেরামতের জন্য বরাদ্দ অধিকাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভোটকেন্দ্র সরেজমিনে পরিদর্শনে গিয়ে বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অধিকাংশ ভোটকেন্দ্রে পাঁচটি এসি/ডিসি বাল্ব, কয়েকটি রড লাইট ও অন্যান্য সংস্কার প্রয়োজন, যা ইতিমধ্যে শেষ করা হয়েছে বা হচ্ছে। আনুমানিক হিসাব করে বা প্রতিষ্ঠান প্রধানদের বক্তব্য মতে অনেক কেন্দ্রে বরাদ্দের ৫০ শতাংশ এবং কিছু কেন্দ্রে বরাদ্দের ৩০ শতাংশ খরচ হওয়ার কথা নয়।
বলাইপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরেজমিন পরিদর্শন ও প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সেখানে সংস্কার বা মেরামতের জন্য পাঁচটি এসি/ডিসি বাল্বই যথেষ্ট। কিন্তু কম গুরুত্বপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও ১১টি প্রতিষ্ঠানের ভোটকেন্দ্রের মধ্যে শোভনালী ইউনিয়নে একই ক্লাস্টারে চারটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্র এ তালিকায় রাখা হয়েছে। পক্ষান্তরে উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রগুলো ঘুরে দেখা গেছে, সংস্কার উপযোগী অতি গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অধিকাংশ কেন্দ্রের নাম এ তালিকায় নেই। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক প্রধান শিক্ষক বলেন, শিক্ষা কর্মকর্তা তাঁর অনুগত ও বিশ্বস্ত প্রধান শিক্ষকদের প্রতিষ্ঠান ছাড়া এ ধরনের বরাদ্দ দেওয়া হয় না। শ্রীউলা ইউনিয়নের নাকতাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ঘুরে দেখা গেছে, সেখানে শৌচাগার নেই। কিন্তু সেখানে কোনো বরাদ্দ না দিয়ে আধুনিক শৌচাগার থাকা বলাইপুর বিদ্যালয়ে বরাদ্দ দিয়ে টাকা তুলেছেন। প্রাচীরবিহীন বিদ্যালয়গুলোতে অস্থায়ী নিরাপত্তা বেষ্টনীর ব্যবস্থা না নিয়ে তিনি কোথাও রং করিয়েছেন, কোথাও অস্থায়ী টিনশেড ঘর বা অহেতুক খরচ দেখিয়ে ভাউচার জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। ২০২৪ সালের সংসদ নির্বাচনেও এই ফর্মুলা ব্যবহার করে ভাউচার জমা নেওয়া হয়েছিল বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক প্রধান শিক্ষক জানান। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা স্বপন কুমার বর্মন বরাদ্দের চাহিদাপত্র না দেখিয়ে বলেন, আমাদের তালিকার বাইরেও ওপর থেকে বরাদ্দ এসেছে। প্রাপ্ত অর্থ খরচ করতে সামান্য ত্রুটি-বিচ্যুতি হতেই পারে। এটা অপচয় নয়। কেন্দ্র সংস্কারের নামে অপচয়ের বিষয়টি উপজেলা শিক্ষা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইদুজ্জামান হিমু সাংবাদিকদের বলেন, আনীত সব অভিযোগের বিষয় খতিয়ে দেখা হবে। সত্যতা প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়