৫ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ১৮ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

সরকারি রাস্তার সাইটে ‘মক্তব বনাম দখল’ উত্তপ্ত বিরোধ : পুনরায় মক্তব চালুর দাবির

শামিম হোসেন, কুয়াদা
যশোরের মণিরামপুর উপজেলার বলিয়ানপুর গ্রামে সরকারি রাস্তার সাইটে অবস্থিত একটি মক্তব ঘরকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে চরম উত্তেজনা ও বিরোধ দেখা দিয়েছেএলাকাবাসীর অভিযোগ, মক্তবটি কোনো ব্যক্তিগত বসতবাড়ি নয়; দীর্ঘদিন ধরে এখানে একটি মক্তব পরিচালিত হতো, যা পরবর্তীতে বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় পাঁচ বছর আগে মানবিক বিবেচনায় স্বামী পরিত্যক্ত নারী শাহিদা বেগমকে সাময়িকভাবে আশ্রয় দেওয়া হয়েছিল। সে সময় এলাকাবাসী ও স্থানীয় অভিভাবকদের সম্মতিতেই তাকে থাকার সুযোগ দেওয়া হয়। শুরু থেকেই বিষয়টি অস্থায়ী হিসেবে নির্ধারিত ছিল।তবে সময়ের ব্যবধানে সেই অস্থায়ী আশ্রয় এখন স্থায়ী দখলের অভিযোগে পরিণত হয়েছে। এলাকাবাসী জানান, শাহিদা বেগমের দুইটি সন্তান বড় ছেলে মোমিনুর ও ছোট ছেলে রণি তারা দুইজনই স্বাাবলম্বী কিন্তু বর্তমানে ওই স্থান ছাড়তে অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন এবং ঘরটিকে নিজের বসতবাড়ি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করছেন শহিদা বেগম। এতে একদিকে সরকারি রাস্তার সাইট সংক্রান্ত জটিলতা দেখা দিয়েছে, অন্যদিকে ভবিষ্যতে শিক্ষা ও জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট কাজে বাধা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এলাকাবাসী জানান আকলিমা, কেয়া, আলতাফ, জলি, হাবিবুর রহমান ও হবি আরো অন্য ব্যাক্তিরা বলেন, আমরা গ্রাম থেকে টাকা তুলে মক্তব করা হয়েছিলো আমাদের সন্তানদের জন্য কিন্তু মক্তবটি বন্ধ হওয়াই“প্রায় পাঁচ বছর আগে মানবিক বিবেচনায় আমরা তাকে আশ্রয় দিয়েছিলাম। তখন ভেবেছিলাম এটি সাময়িক সহায়তা। কিন্তু আজ সেই আশ্রয়ই আমাদের জন্য গলার কাটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারি রাস্তার সাইটে এভাবে স্থায়ীভাবে থাকা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।” তারা আরও জানান, শুরু থেকেই বিষয়টি অস্থায়ী বলে জানানো হয়েছিল, কিন্তু বর্তমানে ওই স্থান ছেড়ে না দেওয়ায় এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়েছে এবং পরিস্থিতি সরকারি জমি দখলের রূপ নিচ্ছে।এলাকাবাসী অভিযোগ করেছেন, বর্তমানে একটি রাজনৈতিক নেতা আহাদ আলী ও তার ভাই মুরাদ শাহিদাকে সহায়তা করছেন। তারা স্থানীয় প্রশাসন ও এসিল্যান্ডসহ বিভিন্ন দপ্তর ঘুরে তার অবস্থান ও দাবিকে সমর্থন দিচ্ছেন।
স্থানীয়রা আরও জানান, শাহিদা বেগমের সন্তান রয়েছে এবং তারা বর্তমানে সবলম্বী অবস্থায় রয়েছেন। কিন্তু ছেলেদের কাছে শহিদা থাকতে চাই নাহ মক্তব টি দখল করে নিজের একটি শক্ত স্থান তৈরি করতে চাই অন্য দিকে এলাকাবাসী বলছে আমাদের ছেলে মেয়েদের জন্য তৈরি করা হয়েছিলো মক্তব সেটি আবার চালু করার কথা বললে পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠলে এসিল্যান্ড ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলেন এবং সাময়িকভাবে পরিস্থিতি শান্ত করেন। তিনি সবাইকে সংযত থাকার নির্দেশ দেন। এলাকাবাসী মনে করছেন, সাময়িক শান্তি যথেষ্ট নয়। তারা দ্রুত ভূমি অফিস, সড়ক বিভাগ ও প্রশাসনের সমন্বিত ও গভীর তদন্ত দাবি করেছেন, যাতে সরকারি জমির প্রকৃত অবস্থা, মক্তবের ইতিহাস এবং বর্তমান ব্যবহারের আইনগত বৈধতা যাচাই করে চূড়ান্ত ও স্বচ্ছ সিদ্ধান্ত নেওয়া জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়