৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ২০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

মেয়ের বাড়ি যাওয়া হলো না সিরাজুল-কোহিনুর দম্পতির

চৌগাছা সংবাদদাতা
চারিদিকে ঈদ উৎসবের আনন্দ। কিন্তু সেই আনন্দ মুহূর্তেই শোকের অন্ধকারে ঢেকে গেছে। যশোরের চৌগাছা উপজেলার ধুলায়ানী ইউনিয়নের আজমতপুর গ্রামে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে সিরাজুল ইসলাম ও তার স্ত্রী কোহিনুর বেগম। গত ২১ মার্চ, ঈদের দিন, বহু প্রতীক্ষিত একটি সফরে বের হয়েছিলো তারা। উদ্দেশ্য ছিল মেয়ে ফারহানা সুলতানা শেফার বাড়ি লক্ষ্মীপুরের রতনকাটি গ্রামে। জীবনে প্রথমবারের মতো ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে যাচ্ছিলেন মেয়ের সঙ্গে। কিন্তু সেই যাত্রাই হয়ে উঠল জীবনের শেষ পথচলা। চৌগাছা বাজার থেকে মামুন পরিবহনের একটি বাসে করে রওনা দেন তারা। পথিমধ্যে কুমিল্লা পাদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয় পৌঁছালে ঘটে ভয়াবহ দুর্ঘটনা। চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী একটি মেইল ট্রেনের সঙ্গে বাসটির সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান ১২ জন যাত্রী, যাদের মধ্যে ছিলেন এই দম্পতিও। পরিবারের সদস্যরা জানান, রাত তিনটার পর থেকেই সিরাজুল ও কোহিনুরের মোবাইল ফোনে আর যোগাযোগ করা যাচ্ছিল না। উদ্বিগ্ন হয়ে স্বজনরা বিভিন্নভাবে খোঁজ নিতে থাকেন। পরে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে মেয়ের জামাই কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে গিয়ে তাদের নিথর দেহ শনাক্ত করেন। যেখানে থাকার কথা ছিল মেয়ের ঘরে, সেখানে তাদের ঠাঁই হলো কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে। আর নিজ গ্রামে প্রস্তুত করা হয়েছে পাশাপাশি দুটি কবর। একসঙ্গে জীবন কাটানো এই দম্পতির শেষ আশ্রয়ও পাশাপাশি। মৃত সিরাজুলের মেজো ভাই নুর ইসলাম জানান, ‘ভাই আর ভাবি এই প্রথম ঈদে মেয়ের বাড়ি যাচ্ছিল। কিন্তু আল্লাহ যা লিখে রেখেছেন, তা তো আর বদলানো যায় না। ঈদের আনন্দের বদলে আমাদের পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। তাদের নামাজে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়