শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড, কিন্তু আমাদের দেশের শিক্ষায় অনিয়ম, অব্যবস্থাপনার শেষ নেই। নকল, প্রশ্ন ফাঁসের মতো নিন্দনীয় কাজ বছরের পর বছর ধরে চলে আসছে। অসাধু চক্র তো বটেই, অনেক সময় এমন অপতৎপরতার সঙ্গে জড়িত থাকেন কিছু শিক্ষক বা শিক্ষা কর্মকর্তাও। এতে প্রকৃত মেধাবীরা যেমন বঞ্চিত হচ্ছে, আবার অযোগ্যরা ডিগ্রি নিয়ে দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছে।পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে, শিক্ষার হার হয়তো বেড়েছে, কিন্তু মান নিয়ে বরাবরই প্রশ্ন থেকে গেছে। শিক্ষা খাতে অনিয়ম দূর করতে বর্তমান সরকারের শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন কঠোরতার বার্তা দিয়েছেন। আমরা মনে করি, তাঁর প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন প্রয়োজন। ২০০১ থেকে ২০০৬ সালে তৎকালীন বিএনপি সরকারের আমলেও শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
নকল রোধে তিনি সফল হয়েছিলেন। শুধু তা-ই নয়, সেই সময় তাঁর ‘হেলিকপ্টার মিশন’ নিয়ে আজও আলোচনা হয়ে থাকে। যখন-তখন হেলিকপ্টার দিয়ে প্রত্যন্ত অঞ্চলের পরীক্ষার কেন্দ্রে হানা দিতেন। এতে শুধু নকলবাজ শিক্ষার্থীরাই নয়, অনেক শিক্ষক ও শিক্ষা কর্মকর্তাও আতঙ্কে থাকতেন।এতে যা হয়েছিল, তা হলো নকল একেবারেই উঠে গিয়েছিল। দীর্ঘ ১৯ বছর পর তিনি একই বার্তা দিয়েছেন।
মন্ত্রীর বরাত দিয়ে খবরে বলা হয়েছে, পাবলিক পরীক্ষাগুলোতে অনিয়ম রোধ করতে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। নকল ও প্রশ্ন ফাঁস রোধে বিশেষ অভিযান চলবে। ঝুঁকিপূর্ণ পরীক্ষাকেন্দ্রগুলোতে সিসি ক্যামেরা বসানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
পর্যায়ক্রমে সব পরীক্ষাকেন্দ্র সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হবে। ‘ভেন্যু কেন্দ্র’ (পরীক্ষাকেন্দ্রের সহযোগী কেন্দ্র) কমিয়ে আনার কথা বলা হয়েছে। এতে নজরদারি সহজ বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন। এ ছাড়া পরীক্ষা পরিচালনায় দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের জন্যও থাকছে কঠোর আইন। মন্ত্রী বলেছেন, ‘যদি কোনো কেন্দ্রে অনিয়ম প্রমাণিত হয়, তবে কেবল শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে নয়, কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও আমরা বিভাগীয় কঠোর ব্যবস্থা নেব।’
খবরে আরো বলা হয়েছে, এবার কোনো ধরনের ‘গ্রেস মার্ক’ বা অনুকম্পার সুযোগ থাকবে না। এতে শিক্ষার্থীরা যা লিখবে, তার ভিত্তিতেই নম্বর পাবে। মন্ত্রী বলেছেন, ‘আমরা চাই মেধার প্রকৃত লড়াই হোক। কোনো ধরনের দয়া-দাক্ষিণ্য দেখিয়ে অযোগ্যদের পার করে দেওয়ার সংস্কৃতি আমরা বন্ধ করতে চাই।’ এই বিষয়টির বাস্তবায়নও অত্যন্ত জরুরি। শিক্ষার মান যদি না থাকে, শুধু শুধু পাসের হার বেশি দেখিয়ে কোনো লাভ নেই।
শিক্ষা খাতে বহু বছরের অনিয়ম বন্ধে কঠোর পদক্ষেপের বিকল্প নেই। দেশ ও জাতিকে সামনে এগিয়ে নিতে হলে মানসম্পন্ন শিক্ষা নিশ্চিত করতেই হবে। এ জন্য আমরা চাই, শিক্ষামন্ত্রীর মিশন সফল হোক।

