প্রতিদিনের ডেস্ক:
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধে ইরানের রপ্তানি আদেশ ঠিক রাখতে নিজেদের বাহিনীর জন্য সু-৩৫ (Su-35) যুদ্ধবিমান উৎপাদন ও সরবরাহ কমাবে রাশিয়া। তবে, রাশিয়া অর্ডার ঠিক রাখতে ইরানের জন্য মোট ৪৮ টি সু-৩৫ যুদ্ধবিমান ঠিক সময়ে সরবরাহ করবে। ২০২৬ ও ২০২৭ সালে রাশিয়ার অ্যারোস্পেস ফোর্সেস জন্য যুদ্ধবিমান উৎপাদন কমাবে বলে বিভিন্ন প্রতিরক্ষা বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে।
মিলিটারি ওয়াচ ম্যাগাজিনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাশিয়ার কমসোমলস্ক-অন-আমুর এভিয়েশন প্ল্যান্ট এরই মধ্যে ইরানের জন্য ২০টি সু-৩৫ যুদ্ধবিমান তৈরি শেষ করেছে। আরও ২৮টি বিমানের অর্ডার রয়েছে। এই অর্ডার সরবরাহ করা হলে ইরানের বহরে মোট ৪৮টি সু-৩৫ যুদ্ধবিমান যুক্ত হবে।
ইরানের এই অর্ডার পূরণ করতে কারখানাটি অতিরিক্ত শিফট চালু, নতুন উৎপাদন সরঞ্জাম স্থাপন এবং জনবল বাড়ানোর মতো পদক্ষেপ নিয়েছে। রুশ কর্মকর্তারা বলছেন, পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও দেশটি অভ্যন্তরীণ চাহিদা ও রপ্তানি উভয়ই সামাল দেওয়ার সক্ষমতা ধরে রেখেছে।
এর আগে সু-৩৫-এর বড় ধরনের একমাত্র বিদেশি ক্রেতা ছিল চীন। ২০১৫ সালের চুক্তির আওতায় চীন ২৪টি সু-৩৫ যুদ্ধবিমান কিনেছিল। ২০২৫ সালে আলজেরিয়া প্রায় ১৮টি এবং ইথিওপিয়া ছয়টি সু-৩৫ কিনেছে বলে জানা গেছে। তবে এসব বিমান নতুন করে উৎপাদন করা হয়নি বরং মিশরের বাতিল হওয়া একটি অর্ডারের জন্য আগে তৈরি করা বিমান সংস্কার করে সরবরাহ করা হয়েছে। ফলে বর্তমানে নতুন উৎপাদন লাইনের ওপর সবচেয়ে বেশি চাপ সৃষ্টি করেছে ইরানের অর্ডার।বিশ্লেষকদের মতে, নিজেদের বিমান বাহিনীর জন্য সু-৩৫ সরবরাহের গতি কমলেও রাশিয়ার সামরিক সক্ষমতায় বড় ধরনের প্রভাব পড়বে না। কারণ দেশটি একই সময়ে সু-৩০এসএম২ (Su-30SM2), সু-৩৪ (Su-34) এবং সু-৫৭ (Su-57) যুদ্ধবিমান উৎপাদন অব্যাহত রেখেছে।
এদিকে রুশ সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ইরান সম্প্রতি আরও ১২টি সু-৩০এসএম২ যুদ্ধবিমান কেনারও সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এছাড়া ভবিষ্যতে সু-৫৭ পঞ্চম প্রজন্মের স্টেলথ যুদ্ধবিমান কেনার বিষয়েও দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে। যদিও বিদ্যমান উৎপাদন ব্যস্ততার কারণে এসব বিমান সরবরাহ ২০৩০ সালের কাছাকাছি শুরু হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের বিমানবাহিনীতে এখনও ৩০০টির বেশি পুরোনো যুদ্ধবিমান রয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে দেশটি সু-৩৫-এর আরও বড় অর্ডার দিতে পারে যা রাশিয়ার যুদ্ধবিমান উৎপাদন ও রপ্তানি পরিকল্পনায় দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলবে
