ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গনে শনিবার জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদি। এর আগে দুপুর আড়ইটায় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় অংশ নেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারাসহ অগণিত মানুষ। জুলাই যোদ্ধা শরিফ ওসমান বিন হাদির মৃত্যুতে গতকাল সারা দেশে রাষ্ট্রীয় শোক পালন করা হয়। দেশের সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সব সরকারি-বেসরকারি ভবন এবং বিদেশে বাংলাদেশ মিশনগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়। জুলাই আন্দোলনের অন্যতম নেতা শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। গত শুক্রবার জাতিসংঘ সদর দপ্তরে নিয়মিত ব্রিফিংকালে তিনি বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ড অনুসরণ করে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনার আহবান জানিয়েছেন। জাতিসংঘ মানবাধিকার দপ্তরের মুখপাত্র জেরেমি লরেন্স শুক্রবার এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘আমরা সবাইকে শান্ত থাকার এবং সহিংসতা থেকে বিরত থাকার আহবান জানাই। প্রতিশোধ ও পাল্টা আক্রমণ শুধু বিভাজন আরো গভীর করবে এবং সবার অধিকার ক্ষুণ্ন করবে।’ অন্তর্বর্তী সরকার শুক্রবার এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘আমরা সহিংসতা, ভীতি প্রদর্শন, অগ্নিসংযোগ এবং জানমাল ধ্বংসের সব কর্মকাণ্ডকে দৃঢ়ভাবে ও দ্ব্যর্থহীনভাবে নিন্দা জানাই।’ বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ‘দেশের ইতিহাসের এই সংকটময় সময়ে আমরা একটি ঐতিহাসিক গণতান্ত্রিক রূপান্তরের মধ্য দিয়ে অগ্রসর হচ্ছি। যারা বিশৃঙ্খলাকে পুঁজি হিসেবে নেয় এবং শান্তির পথকে উপেক্ষা করে, এমন অল্প কয়েকজনের কারণে এই অগ্রযাত্রা আমরা কোনোভাবেই ব্যাহত হতে দিতে পারি না এবং দেব না।
’ সংবাদমাধ্যমের ওপর সাম্প্রতিক হামলা প্রসঙ্গে বিবৃতিতে বলা হয়, ‘দ্য ডেইলি স্টার, প্রথম আলো ও নিউ এজের সাংবাদিকদের প্রতি আমরা বলতে চাই, আমরা আপনাদের পাশে আছি।’ একটি পুরনো চিহ্নিত মহল দেশকে পরিকল্পিতভাবে নৈরাজ্যের পথে ধাবিত করতে চায় বলে মনে করছে বিএনপি। তারা মনে করছে, গত বৃহস্পতিবারের ঘটনা এটিই প্রমাণ করে। দলটি বলছে, অনেক রক্তের বিনিময়ে অর্জিত আমাদের ভোটাধিকার তথা গণতান্ত্রিক অধিকারকে তারা নস্যাৎ করে দেশে ফ্যাসিবাদের একটি নতুন সংস্করণ তৈরি করতে চাচ্ছে। সরকারের নাকের ডগায়ই তারা এই তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। শুক্রবার রাতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির জরুরি বৈঠকের সিদ্ধান্ত জানিয়ে এসব কথা বলেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টার কার্যালয়ে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় তীব্র নিন্দা এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছে সম্পাদক পরিষদ ও নোয়াব। শুক্রবার সম্পাদক পরিষদের সভাপতি নুরুল কবির ও নোয়াব সভাপতি এ কে আজাদ যৌথ বিবৃতিতে ওই দাবি জানান। বিবৃতিতে সম্পাদক পরিষদ ও নোয়াব বলেছে, ‘এই হামলা শুধু গণমাধ্যমের ওপর নয়, এটি আমাদের সমাজের ওপর এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ওপর আক্রমণ। সর্বোপরি বাংলাদেশের ওপর আক্রমণ।’ একই সঙ্গে সম্পাদক পরিষদ ও নোয়াব ছায়ানটে হামলার ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায়। আমরা শহিদ শরিফ ওসমান বিন হাদির রুহের মাগফিরাত কামনা করছি। তাঁর পরিবারের সদস্য ও তাঁর সহকর্মীদের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করছি। আমরা চাই, শহিদ হাদির হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা হোক এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত হোক।

