২৪শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ  । ৯ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

যেসব কারণে বিদায় নিতে হলো আলোনসোকে

প্রতিদিনের ডেস্ক
দায়িত্বে আসার পর গেল সাত মাসে রিয়াল মাদ্রিদ ও জাবি আলোনসোর সম্পর্কের অবসান ঘটল। জুনে ক্লাব বিশ্বকাপ দিয়ে জাবির সঙ্গে তার সাবেক ক্লাবের শুরু হয়েছিল এবং স্প্যানিশ সুপার কাপের ফাইনালে হারের মাধ্যমে তা শেষ হয়। রোববার (১১ জানুয়ারি) বার্সেলোনার কাছে হেরে সুপার কাপের শিরোপা হারানোর পর আলোনসোর পদত্যাগের গুঞ্জন ওঠে। অনেকের ধারণা ছিল, বড় ব্যবধানে হার না হলেও আলোনসোর কোচিং সময় বাড়বে, তবে মাদ্রিদ ‘সম্মানজনক হার’ মানে না।এরই ফলশ্রুতিতে আলোনসোকে চাকরি হারাতে হলো। স্প্যানিশ গণমাধ্যম মার্কা আলোনসোর বিদায়ের পাঁচটি মূল কারণ তুলে ধরেছে। চলুন সেগুলো জেনে নেওয়া যাক।
বাড়তি চাপ
খেলার পাশাপাশি মাঠের বাইরের বিষয়গুলোও ছিল আলোনসোর বিদায়ের অন্যতম কারণ। বিশেষ করে ড্রেসিংরুমের ব্যবস্থাপনা নিয়ে সমস্যা ছিল। যদিও কিছু ভালো পারফরম্যান্স ছিল, তবে ক্লাব বিশ্বকাপ জেতা সম্ভব হয়নি। তার হাই প্রেসিং ফুটবল, যা তার অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল, অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে ৫–২ ব্যবধানে হারের পর অনেকটা উধাও হয়ে যায়। এই চাপই আলোনসোর বিদায়ের মূল কারণ হিসেবে কাজ করেছে।
‘রক অ্যান্ড রোল’ ফুটবলের অভাব
আলোনসো যে ‘রক অ্যান্ড রোল’ ফুটবল আশা করেছিলেন, তা দেখা যায়নি। দলের খেলা প্রায়ই নিষ্প্রভ ও শক্তিহীন মনে হয়েছে এবং শারীরিক প্রস্তুতিও প্রশ্নবিদ্ধ ছিল। রক্ষণভাগের আগের সমস্যা, যা আনচেলত্তির সময় ছিল, তা অপরিবর্তিত থেকে যায়। কিছু ম্যাচে, বিশেষ করে বার্সেলোনার বিপক্ষে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে কিছুটা ঝলক দেখা গেলেও তা ছিল খুবই সামান্য। সময়ের সঙ্গে দলের খেলা যেন আরও আনচেলত্তির মাদ্রিদের মতো হয়ে উঠছিল।
মাঝমাঠে সমন্বয়হীনতা
সব দায় কোচের ওপর চাপানো ঠিক নয়, তবে আলোনসো একটি ‘ক্ষুরধার মস্তিষ্ক’ চেয়েছিলেন, যা ক্লাব দিতে পারেনি। জুবিমেন্দিকে আর্সেনালে ৬০ মিলিয়ন ইউরোয় বিক্রি করা হলে, তার বদলে মাস্তান্তুয়োনোকে আনা হয়। কোচের ইচ্ছার বিরুদ্ধে লুকা মদ্রিচকেও বিদায় দেওয়া হয়, যার ফলে মাঝমাঠে সৃজনশীলতা হারিয়ে যায়। চুয়ামেনি, কামাভিঙ্গা এবং ফেদে ভালভার্দে ভালো খেলোয়াড় হলেও, তাদের পক্ষে খেলা ছন্দে আনা বা সূক্ষ্ম পাসে আক্রমণ সাজানো সম্ভব নয়। বেলিংহামের এই ক্ষমতা থাকলেও, নানা পজিশনে খেলতে গিয়ে তিনি নিজেই বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন।
জেদ্দায় লং বলের ফুটবল
সুপার কাপ ফাইনালে রিয়াল কোনো গোল করতে পারেনি এবং কোর্তোয়া প্রায় ৪০টি লং বল মেরেছেন অ্যাথলেটিকোর প্রেসিং এড়াতে। কিন্তু বার্সেলোনার বিপক্ষে এমন কিছু সম্ভব হয়নি। রিয়াল যেন ছোট দলের মতো খেলছিল। মাদ্রিদে শুধুমাত্র ফল নয়, বরং খেলার ধরনও গুরুত্বপূর্ণ। জেদ্দায় এই ‘ছোট দলের’ চিত্র আলোনসোর বিদায়ে এক বড় কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
ভিনিসিয়ুসের সঙ্গে সংকট
আলোনসোর সমালোচনা শুরু হয়েছিল মৌসুমের শুরুর দিকে। তিনি খুবই কৌশলনির্ভর ছিলেন এবং খেলোয়াড়দের নানা বিষয় নিয়ে হস্তক্ষেপ করতেন, যা অনেকেরই পছন্দ হয়নি। বিশেষ করে ভিনিসিয়ুসের বদলি হওয়ার বিষয়টি নিয়ে শুরু থেকেই অশান্তি দেখা দেয়। এল ক্লাসিকোতে ভিনিসিয়ুসের বদলি হওয়ার পর ব্রাজিলিয়ান তারকা অসন্তোষ প্রকাশ করেন, যা গণমাধ্যমে এবং মাঠে বড় আলোচনা তৈরি করে। এরপর তাদের সম্পর্ক আরও তিক্ত হয়ে ওঠে। এর ফলস্বরূপ, ড্রেসিংরুমের মধ্যে বিভাজন স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়