নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোর সদরের নরেন্দ্রপুর খন্দকারপাড়ায় বন্ধ ঘোষণা করা সেই ভেজাল সার কারখানায় ফের অভিযান পরিচালনা করলো ভ্রাম্যমাণ আদালত। দ্বিতীয়বারের মতো অভিযানে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য—টাইলসের গুঁড়া, পোড়া মাটি, চুন, কৃত্রিম রং ও নানা রাসায়নিক মিশিয়ে ‘চায়না গ্রোজিং’ নামে নকল সার তৈরি করে দীর্ঘদিন ধরে কৃষকদের সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছিল। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত ঝটিকা অভিযানে বিপুল পরিমাণ ভেজাল উপকরণ ও সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। অভিযান পরিচালনা করেন যশোর সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শামীম হোসাইন। কারখানার ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয়—টাইলসের গুঁড়া, পোড়া মাটি, বিভিন্ন রাসায়নিক পাউডার, কৃত্রিম রঙ, কাঠের গুঁড়া এবং নকল মোড়ক। উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাজিয়া সুলতানা ও কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবির। জব্দকৃত সব উপকরণ ঘটনাস্থলেই ধ্বংস করা হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, একই প্রতিষ্ঠানে গত বছরের ১৭ ডিসেম্বরও অভিযান চালিয়ে ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছিল। কিন্তু জরিমানার পরও তারা কার্যক্রম বন্ধ না করে গোপনে আবারও উৎপাদন শুরু করে। অভিযানের খবর পেয়ে অভিযুক্ত ইকরামুজ্জামান খন্দকার (আজিজ খন্দকারের ছেলে) ও তার স্ত্রী পালিয়ে যান। ফলে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, নকল দস্তা সার উৎপাদনের মাধ্যমে কৃষকদের মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত করা হচ্ছে। আগের শাস্তি থেকে তারা শিক্ষা নেয়নি। এবার তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত ফৌজদারি মামলা দায়েরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।উপজেলা কৃষি বিভাগ সতর্ক করে জানিয়েছে, ভেজাল সার ব্যবহারে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি ও জমির উর্বরতা দীর্ঘমেয়াদে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। কৃষকদের শুধুমাত্র অনুমোদিত ডিলারের কাছ থেকে সার কেনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

