প্রতিদিনের ডেস্ক:
শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ডের (এসএলসি) সভাপতি শাম্মি সিলভা পদত্যাগ করেছেন। এ ছাড়া পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন বোর্ডের সব কর্মকর্তা এবং কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যরা।শাম্মি সিলভার পদত্যাগপত্র আজ আনুষ্ঠানিকভাবে দেশটির প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েকে এবং যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক মন্ত্রী সুনীল কুমারা গামাগের কাছে পাঠানো হয়েছে। গতকাল এক বিশেষ সভায় প্রায় তিন ঘণ্টা আলোচনার পর সবাই নিজ নিজ পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর বিষয়ে একমত হয়েছিলেন।
৬৫ বছর বয়সী সিলভা ২০১৯ সাল থেকে এসএলসি সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। শ্রীলঙ্কা পুরুষ দলের ক্রমাগত অবনতি এবং অব্যবস্থাপনার অভিযোগ নিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে তিনি দাঁড়ালেন। ২০১৯ সালে তিলঙ্গা সুমাথিপালার উত্তরসূরি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর টানা চার মেয়াদে বোর্ডপ্রধানের পদে ছিলেন সিলভা, যার মধ্যে তিনবারই তিনি নির্বাচিত হয়েছিলেন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়।সিলভা ২০২৫ সালে এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসির) সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।চলতি বছরের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের সঙ্গে যৌথভাবে আয়োজক ছিল শ্রীলঙ্কা। ঘরের মাঠে টুর্নামেন্টে সুপার এইট পর্ব থেকেই বিদায় নেয় লঙ্কানরা।
এর আগে ২০২৩ সালে ওয়ানডে বিশ্বকাপে দলের হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর সিলভাকে সভাপতির পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সেই সময় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের কারণে শ্রীলঙ্কা বোর্ডকে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করেছিল আইসিসি। ২০২৫ সালে সিলভা পুনরায় এসএলসি প্রধান হিসেবে ফিরে এলেও, অবশেষে তার সাত বছরের শাসনের অবসান ঘটল।
শ্রীলঙ্কা সরকারের পক্ষ থেকে এখন একটি অন্তর্বর্তীকালীন কমিটি গঠনের জোর সম্ভাবনা রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই নতুন কমিটির নেতৃত্বে থাকবেন সাবেক সংসদ সদস্য ইরান বিক্রমরত্নে।এছাড়া ক্রিকেট বোর্ডে সংস্কার প্রক্রিয়া দ্রুত করার লক্ষ্যে লঙ্কান ক্রিকেটের দুই কিংবদন্তি সিদাথ ওয়েত্তিমুনি এবং রোশান মহানামাকেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। তবে এখনো সরকারিভাবে কোনো চূড়ান্ত ঘোষণা আসেনি। ইরান বিক্রমরত্নের নেতৃত্বাধীন প্রস্তাবিত অন্তর্বর্তীকালীন কমিটি গঠন নিয়ে এখন বড় ধরনের আইনি মারপ্যাঁচেও পড়েছে শ্রীলঙ্কা। এসএলসি’র বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী, সভাপতির পদ শূন্য হলে কার্যনির্বাহী কমিটিকে সভা ডেকে বর্তমান সহ-সভাপতিদের মধ্য থেকে একজনকে সেই পদে বসাতে হয়। কিন্তু গত মঙ্গলবার সহ-সভাপতি জয়ন্ত ধর্মদাসা এবং রবিন বিক্রমরত্নে দুজনেই পদত্যাগ করায় সেই পথ এখন বন্ধ। বোর্ড বা সংগঠনের অভ্যন্তরীণ এই নিয়ম এড়িয়ে যাওয়ার জন্য সরকার সাধারণত ১৯৭৩ সালের ২৫ নম্বর ক্রীড়া আইনের ৩৩ নম্বর ধারা ব্যবহার করে থাকে। এই আইন বলে ক্রীড়ামন্ত্রী চাইলে যেকোনো জাতীয় ক্রীড়া সংস্থাকে বিলুপ্ত ঘোষণা করে অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা নিতে পারেন।তবে এই পুরো প্রক্রিয়ার সামনে সবচেয়ে বড় বাধা হতে পারে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। ক্রিকেট বোর্ড পরিচালনায় সরকারের হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে আইসিসি সবসময়ই জিরো-টলারেন্স নীতি মেনে চলে।
অতীতে দেখা গেছে, সরকার মনোনীত কোনো কমিটি বা কর্তৃপক্ষ যদি বোর্ডের দায়িত্ব নেয়, তবে সেটিকে আইসিসি তাদের গঠনতন্ত্রের (আর্টিকেল ২.৪ ডি) লঙ্ঘন হিসেবে দেখে। এর ফলে শ্রীলঙ্কা আবারও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিষিদ্ধ হওয়ার ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

