নিজস্ব প্রতিবেদক
জাদুর মাধ্যমে কাগজের টাকাকে আসল টাকা, আর সামান্য স্বর্ণকে বহুগুণে বাড়িয়ে দেব-এমন মোহনীয় প্রলোভন দেখিয়ে যশোরে সক্রিয় একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র অবশেষে পুলিশের জালে ধরা পড়েছে। প্রতারণার শিকার এক নারীর কাছ থেকে আত্মসাৎকৃত প্রায় ৫ লাখ টাকার স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ভুক্তভোগী গোলাপী রানি দত্ত (৩৫) জানান, প্রায় এক মাস আগে অজ্ঞাতনামা একটি মোবাইল নম্বর থেকে ফোনে ‘ধর্মবোন’ পরিচয়ে তার সাথে সখ্যতা গড়ে তোলে প্রতারকরা। ধীরে ধীরে আস্থা অর্জনের পর গত ১ আগস্ট রুপদিয়া রেল স্টেশনের পাশে দেখা করে প্রতারকরা নিজেদেরকে জাদুবিদ্যায় পারদর্শী দাবি করে। তারা জানায়, বিশেষ জাদুর মাধ্যমে নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার বহুগুণে বাড়িয়ে দেওয়া সম্ভব। এই লোভনীয় প্রলোভনে বিশ্বাস করে গোলাপী রানি দত্ত ৩ আগস্ট দুপুরে রুপদিয়া রেল স্টেশনের কাছে গিয়ে নিজের ব্যবহৃত ১৯টি স্বর্ণের আংটি, ৬ জোড়া কানের দুল, ৪টি বিভিন্ন ধরনের স্বর্ণ চেইন ও একটি টিকলি—মোট প্রায় ৩ ভরি স্বর্ণ (মূল্য প্রায় ৫ লাখ টাকা) প্রতারকদের হাতে তুলে দেন। কিন্তু স্বর্ণ নেওয়ার পরপরই তারা দ্রুত সটকে পড়ে। পরে অভিযোগের ভিত্তিতে জেলা গোয়েন্দা শাখার অফিসার ইনচার্জের নেতৃত্বে এসআই অলক কুমার দে পিপিএম-এর টিম আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে অভিযান চালায়। বুধবার রাত বারোটার দিকে নরেন্দ্রপুরের শাখারীগাত গ্রাম থেকে প্রতারক চক্রের অন্যতম সদস্য মোঃ আসাদুল শেখ ওরফে রাজু (৪০) কে গ্রেফতার করা হয়। তার স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে রুপদিয়া বাজার থেকে আরও এক সদস্য মোঃ খাইরুল ইসলাম (৪৫) কে আটক করে পুলিশ। খাইরুলের কাছ থেকেই উদ্ধার করা হয় আত্মসাৎকৃত স্বর্ণালঙ্কার। ডিবি পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃতরা দীর্ঘদিন ধরে মানুষকে জাদুর ফাঁদে ফেলে নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার আত্মসাৎ করে আসছে। তারা সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের সক্রিয় সদস্য। আটককৃত আসামিরা হলো, মোঃ আসাদুল শেখ ওরফে রাজু (৪০), পিতা: নফল আলী শেখ, সাং: উত্তর আরশনগর, থানা: ডুমুরিয়া, জেলা: খুলনা। মোঃ খাইরুল ইসলাম (৪৫), পিতা: আব্দুল গফফার, সাং: শাখারীগাতী পূর্বপাড়া, ইউপি: নরেন্দ্রপুর, থানা: কোতোয়ালী মডেল, জেলা: যশোর; বর্তমান ঠিকানা: মামনি জুয়েলার্স, রুপদিয়া বাজার, যশোর।

